সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে মাদক, আত্মহত্যা ও সহিংসতার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা দেশটিকে ‘ধনী বিশ্বের অসুস্থ’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুহার বাড়ছে। ক্যানসার ও হৃদরোগে মৃত্যু কমলেও দুর্ঘটনা, বিষক্রিয়া ও মাদকের ব্যবহারে মৃত্যু তীব্রভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা দেশটিকে অন্যান্য ধনী দেশ থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুসারে, ২২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বয়সী নারীদের মৃত্যু ৪৬% এবং পুরুষদের ৩১% বেড়েছে। অন্য ২১টি দেশের মধ্যে ১৯টিতে মৃত্যুহার কমেছে, কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই প্রবণতা যুক্তরাজ্যের মতো। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে মাদক-সংক্রান্ত মৃত্যুর হার অন্য দেশের গড়ের তিন গুণ ছিল।
লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক ডেভিড লিওন বলেন, “২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর ঝুঁকি গত এক দশক ধরে বাড়ছে, যা বেশিরভাগ দেশে কমেছে। এটি মর্মান্তিক কারণ এই বয়সে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।” হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী জেনিফার ডিক্সন বলেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়। যুক্তরাজ্য ধনী বিশ্বের অসুস্থ দেশ হয়ে উঠছে। ২০১০-এর দশকে সরকারের কঠোর নীতি, ধূমপান, মদ্যপান ও খারাপ খাদ্যাভাস এই অবস্থার জন্য দায়ী।”
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মাদক বিষক্রিয়ায় ৫,৪৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১% বেশি এবং ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে প্রতি মিলিয়নে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়, যা ২০১২ সালের ৪৩.৫-এর দ্বিগুণ। আত্মহত্যার হারও বেড়েছে, তবে পুরুষদের মধ্যে মদ্যপান-সংক্রান্ত মৃত্যু কমেছে।
লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও উইথইউ নামে একটি মাদক-বিরোধী দাতব্য সংস্থা সরকারের কাছে ন্যালক্সোনের প্রাপ্যতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। এটি হেরোইন ও মিথাডোনের ওভারডোজের জরুরি প্রতিষেধক। উইথইউ-এর নীতি প্রধান রবিন পোলার্ড বলেন, “মাদক-সংক্রান্ত মৃত্যু কমাতে কাঠামোগত চিকিৎসায় প্রবেশ সহজ করা জরুরি। উচ্চমানের ওপিয়েট প্রতিস্থাপন চিকিৎসার প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে।” স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র বলেন, “মাদকের অপব্যবহারে প্রতিটি মৃত্যু একটি ট্র্যাজেডি। আমরা এই মৃত্যু কমাতে এবং মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















