সাইফ হাসান: বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক এইচএসবিসি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বিনিয়োগ, ভোক্তা ব্যয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, যা বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকটি ইতিমধ্যে খারাপ ঋণের জন্য বাড়তি অর্থ সংরক্ষণ করেছে।
এইচএসবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “শুল্ক ও বািজ্য উত্তেজনা আরও বাড়লে বাণিজ্যের পরিমাণ, বিনিয়োগ এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাবে, যা বিশ্ব জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করবে।” ব্যাংকটি ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে খারাপ ঋণের জন্য ৯০ কোটি ডলার সংরক্ষণ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ কোটি ডলার বেশি। এর কারণ হিসেবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তাকে দায়ী করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি বলেন, “আমরা এবং আমাদের গ্রাহকরা আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি হবে।” তিনি আরও বলেন, “বৈশ্বিকীকরণের অবসান নয, বরং এর পুনর্বিন্যাস ঘটবে, যেখানে বাণিজ্যিক পথগুলো ভৌগলিকভাবে স্থানান্তরিত হবে।”
এইচএসবিসি’র হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও পাল্টা শুল্কের কারণে চীন, হংকং এবং মেক্সিকোর মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রথম বছরে এসব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৪০ বেসিস পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় বছরে আরও ২০ বেসিস পয়েন্ট কমতে পারে। এছাড়া, বৈশ্বিক শুল্ক বৃদ্ধি পেলে “গভীর বিশ্ব মন্দা” দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংকটি।
এদিকে, ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগলোতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরে আগামী সপ্তাহে পৌঁছানোর কথা থাকা জাহাজের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। এই পরিস্থিতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এইচএসবিসি’র প্রথম প্রান্তিকে কর প্রাক্কলনের আগে মুনাফা ২৫% কমে ৯৫০ কোটি ডলার হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩২০ কোটি ডলার কম। এর কারণ হিসেবে কানাডা ও আর্জেন্টিনায় ব্যাংকের কার্যক্রম বিক্রির প্রভাবকে দায়ী করা হয়েছে। তবে হংকংয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ও ইক্যুইটি বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকটি কিছ গ্রাহক বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















