সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বাজেট পোশাক ব্র্যান্ড প্রাইমার্কের মালিক কোম্পানি অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ ফুডস (এবিএফ) বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির আতঙ্কে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে প্রাইমার্কের বিক্রি ৬% কমেছে। এই খবরে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল ২০২৫) কোম্পানির শেয়ারের দাম ৯% এর বেশি পড়ে গেছে। এবিএফ জানিয়েছে, শুল্কযুদ্ধের জেরে ভোক্তাদের আস্থা আরও কমতে পারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ম্দার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এবিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ঘোষণা, চীনের পাল্টা পদক্ষেপ এবং শুল্কযুদ্ধের ঝুঁকিতে ভোক্তাদের আতঙ্ক বাড়ছে। এতে অনেক দেশ মন্দার দিকে যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ঋণের বোঝা বাড়াবে।” ১ মার্চ পর্যন্ত ২৪ সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে প্রাইমার্কের তুলনামূলক বিক্রি ৬% কমেছে, যদিও ক্রিসমাসের সময় বিক্রি ভালো ছিল।
প্রাইমার্কের বাজার হারানোর পেছনে ভোক্তাদের সতর্ক মনোভাব ও শরৎকালে হালকা আবহাওয়ার প্রভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়, বাজেটের পর চাকরি হারানোর আতঙ্কে প্রাইমার্কের নিম্ন-আয়ের গ্রাহকদের কেনাকাটা কমেছে। তবে, সম্প্রতি উষ্ণ আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে বিক্রিতে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা গেছে।
এদিকে, প্রাইমার্কের সাবেক প্রধান নির্বাহী পল মার্চান্ট গত মাসে এক নারীর অভিযোগের পর “ভুল সিদ্ধান্তের” কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন। কোম্পানি জানিয়েছে, তার স্থায়ী উত্তরসূরির খোঁজ চলছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাইমার্কের বিক্রি ১% বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালি এবং পূর্ব ইউরোপে নতুন দোকান খোলার ফলে। এবিএফ-এর মোট আয ২% কমে ৯.৫ বিলিয়ন পাউন্ড এবং কর-পূর্ব মুনাফা ১০% কমে ৮১৮ মিলিয়ন পাউন্ড হয়েছে। চিনি বিভাগে বড় ক্ষতির কারণে এই পতন।
এবিএফ-এর প্রধান নির্বাহী জর্জ ওয়েস্টন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ৮০০ ডলারের কম মূল্যের পণ্যে শুল্কমুক্ত নিয়ম বাতিল হওয়ায় প্রতিযোগীদের দাম বাড়বে। এতে গ্রাহকরা প্রাইমার্কের দোকানে ফিরতে পারেন।” তিনি জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইমার্কের দোকান ২৯ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে এবিএফ-এর বায়োএথানল প্ল্যান্ট ভিভারগো বন্ধের ঝুঁকিতে। নিয়ন্ত্রণ সংস্কা না হলে ২০০ চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। কোম্পানি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে, তবে সফলতার নিশ্চয়তা নেই।
বাজার বিশ্লেষক আরিন চিক্রি বলেন, “প্রাইমার্কের আয় বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে, বিদেশি বাজারে প্রসারের ওপর নির্ভর করে তারা পারফরম্যান্স ধরে রাখার চেষ্টা করছে।”
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















