ওয়ানবাংলানিউজ: তীব্র গরমের কারণে পুরো ইংল্যান্ডে এবং ওয়েলসের কিছু কিছু স্থানে আবহাওয়ার হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার ব্রিটেনে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সড়ক পথ এবং রেলপথ মাত্রাতিরিক্ত গরম হয়ে যাতায়াত ব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। রেল কোম্পানি ‘অভন্তি ওয়েস্টকোস্ট’ এবং ‘লন্ডন নর্থ-ইস্টার্ন রেলওয়ে’ ইতোমধ্যে তাদের বেশ কিছু যাত্রা বাতিল করেছে। স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রে হলুদ সতর্কতা কার্যকর হবে সোমবার থেকে। লন্ডন সহ ইংল্যান্ডের সর্বত্র সোমবার থেকে লাল সতর্কতা জারি থাকবে। গরমের কারণে এসময় মানুষ গুরুতর অসুস্থ হতে পারে, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও আছে। তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে ২০১৯ সালে ক্যাম্ব্রিজে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৮ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) এর প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা অ্যান্ডি লর্ড বলেন, ‘‘এমন তীব্র গরম আগামী সপ্তাহেও দেখা যেতে পারে। তাই গ্রাহকদের শুধুমাত্র অতি প্রয়োজনীয় ভ্রমণের জন্য লন্ডনের গণপরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা উচিত।
‘‘সবাইকে নিরাপদ রাখতে লন্ডনের টিউব এবং রেল পরিষেবাগুলিতে অস্থায়ী গতি বিধিনিষেধ চালু করা হবে। আমি যাত্রীদের অনুরোধ করছি, সবসময় নিজের সঙ্গে পানি রাখুন।”
তীব্র গরম এবং মারাত্মক তাপমাত্রায় বিদ্যুতের লাইন এবং ট্রাফিক সিগনালের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টিএফএল’র পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা পরিবহন সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছে।
টিউব নেটওয়ার্ক এবং ডাবল-ডেকার বাসগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কিনা সেগুলোও পরীক্ষা করে দেখা হবে।
যারা ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে চলাফেরা করেন তাদেরও দিনের যে সময়ে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে ওই সময়ে রাস্তায় বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জীবননাশের ঝুঁকি
যু্ক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে লন্ডনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
ওই অবস্থাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস প্রথমবারের মত লন্ডন এবং ম্যানচেস্টারসহ যুক্তরাজ্যের কোথাও কোথাও অতি চরম গরমের সতর্কতা ‘রেড ওয়ার্নিং’ জারি করেছে।
আবহাওয়া অফিসের মুখপাত্র গ্রাহাম ম্যাডজে বলেন, ‘‘যদি কারো অসুস্থ, দুর্বল বা বয়স্ক আত্মীয় বা প্রতিবেশী থাকে তবে তার জন্য তাপদাহ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার এখনই সময়। কারণ, আমরা যেসব এলাকায় লাল সতর্কবার্তা জারি করেছি সেসব এলাকায় সত্যিই যদি তাপমাত্র পূর্বাভাস অনুযায়ী তীব্র হয় তবে সেখানে জনগণের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।”
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা থেকেও তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের মত গরমজনিত অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এবং সতর্কতা তৃতীয় পর্যায় থেকে চতুর্থ পর্যায়ে উন্নিত করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ের স্বাস্থ্য সতর্কতাকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থার’ পর্যায় বলে ধরা হয়।















