সাইফ হাসান: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। তিনি বলছেন, জনগণের জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা জ্বালানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিবর্তে প্রযুক্তিগত সমাধান, যেমন কার্বন ক্যাপচার, নিয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তবে তার এই মন্তব্যে লেবার পার্টির অন্দরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
টনি ব্লেয়ার মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল ২০২৫) টনিठ্লেয়ার ইনস্টিটিউটের (টিবিআই) এক প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলেন, “জনগণকে আর্থিক ত্যাগ আর জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যদিও তারা জানে তাদের প্রভাব বিশ্বব্যাপী নির্গমনে নগণ্য।” তিনি আরও বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ বা ব্যবহার কমানোর কৌশল ব্যর্থ হতে বাধ্য।”
ব্লেয়ারের মতে, জলবায়ু আলোচনা এখন “অযৌক্তিক” দিকে যাচ্ছে এবং নেট জিরো নীতি জনসমর্থন হারাচ্ছে। তিনি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির চেয়ে কার্বন ক্যাপচার ও পারমাণবিক শক্তির মতো প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে যুক্তরাজ্যে জলবায়ু নীতি এখনও জন্রিয়। ইউগভ’র সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬% ভোটার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত সপ্তাহে লন্ডনে এক সম্মেলনে বলেন, “জলবায়ু সংকট মোকাবিলা আমার সরকারের ডিএনএ’র অংশ। আমরা অপেক্ষা করব না, বরং গতি বাড়াব।” কিন্তু ব্লেয়ার মনে করেন, বর্তমান নীতি অপ্রতুল এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগোতে হবে।
টিবিআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, নেট জিরো নীতি এখন “অপ্রতিরোধ্য, অকার্যকর ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর” হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্রিন অ্যালায়েন্সের হলি ব্রাজিয়ার টোপ বলেন, “এই প্রতিবেদন হতাশাজন। ব্লেয়ারের জলবায়ু নিয়ে ইতিবাচক অবদানের রেকর্ড থাকলেও এটি পরাজয়বাদী মনোভাব ছড়াচ্ছে।”
শিল্প সংশ্লিষ্টরাও ব্লেয়ারের বক্তব্যে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন। এনার্জি ইউকে’র অ্যাডাম বারম্যান বলেন, “নেট জিরো ২১শ শতাব্দীর অর্থনৈতিক সুযোগ। বায়ু ও সৌরশক্তির দ্রুত প্রসারে যুক্তরাজ্যের নির্গমন ১৯৯০ সালের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে।”
জীবাশ্ম জ্বালানি বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ৭৫% এরও বেশি অবদান রাখে। ব্লেয়ার জলবায়ুকে “আমাদের সময়ের মৌলিক চ্যালেঞ্জ” বলে উল্লেখ করলেও বর্তমানে চীন ও ভারতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিান ভ্রমণ ও ইস্পাত-সিমেন্টের উৎপাদন বাড়ার কথা তুলে ধরেন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















