সাইফ হাসান: লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের ফোন হ্যাকিং তদন্তে রুপার্ট মারডকের কোম্পানি নিউজ গ্রুপ নিউজপেপার্স (এনজিএন) ‘সক্রিয়ভাবে বাধা’ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি নতুন আদালত নথি থেকে জানা গেছে, প্রাক্তন গোয়েন্দারা এই অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি, একজন গোয়েন্দা বলেছেন, এনজিএনের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী উইল লুইসকে ‘ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা যেতে পারত।
২০১১ সালে শুরু হওয়া ‘অপারেশন উইটিং’ নামের তদন্তে এনজএনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সু অ্যাকার্স বলেছেন, “এনজিএন পুলিশের তদন্তকে সক্রিয়ভাবে ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছে এবং আমাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এনজিএনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে জানলে তিনি উইল লুইসের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে তদন্ত করতেন।
অপর এক গোয়েন্দা, অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর বার্নি র্যাটক্লিফও বলেছেন, “আমি উইল লুইসকে সন্দেহভাজন হিসেবে গণ্য করে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতাম এবং ন্যায়বিারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বিবেচনা করতাম।” এই অভিযোগগুলো লন্ডনের হাইকোর্টে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রিন্স হ্যারি এবং প্রাক্তন লেবার নেতা টম ওয়াটসনের ফোন হ্যাকিং মামলার অংশ ছিল।
এনজিএন এই অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের মুখপাত্র বলেছেন, “ইমেইল মুছে ফেলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না যাতে পুলিশের তদন্ত থেকে প্রমাণ লুকানো যায়।” তারা দাবি করেছে, ইমেইল মুছে ফেলা বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত কারণে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ ছিল। ২০১৫ সালে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও বলেছি, ইমেইল মুছে ফেলার পেছনে ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
২০১১ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এনজিএনের লাখ লাখ ইমেইল মুছে ফেলা হয়। উইল লুইস, যিনি এই নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন। এই ঘটনার পর নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। এনজিএন বলেছে, তারা পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছে এবং তাদের পুরোনো সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে ইমেইল মুছে ফেলা জরুরি ছিল।
হ্যারি ও ওয়াটসন অভিযোগ করেছেন, এনজিএনের নির্বাহীরা প্রমাণ লুকাতে ‘গোপনীয়তা ও ধ্বংস পরিকল্না’ করেছিলেন। এনজিএন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা তথ্য সংরক্ষণে সচেষ্ট ছিল। মামলাটি জানুয়ারিতে আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়, যেখানে এনজিএন হ্যারিকে ফোন হ্যাকিংয়ের জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং ১ কোটি পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















