রয়্যাল মেইলের চাঞ্চল্যকর দাবি: প্রতিটি পার্সেলে ট্র্যাকিং চায় যুক্তরাজ্যে!

149

ওয়ানবাংলানিউজ:যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ডাক পরিষেবা রয়্যাল মেইল এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে! প্রতিষ্ঠানটি দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের কাছে আবেদন করেছে, যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতিটি পার্সেলে ট্র্যাকিং সুবিধা দেওয়ার অনুমতি মেলে। এই দাবির পেছনে রয়েছে গ্রাহকদের চাহিদা এবং আধুনিক ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মেলানোর প্রয়োজনীয়তা। তবে, অফকমের প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।

রয়্যাল মেইল বলে, বর্তমানে তাদের স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিসে ট্র্যাকিং সুবিধা দেওয়ার অনুমতি নেই, যা গ্রাহকদের জন্য অসুবিধার কারণ। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই বিধিনিষেধ গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে মেলে না এবং ডিজিটাল যুগে সর্বজনীন ডাক পরিষেবাকে অকার্যকর করে তুলছে।” তারা জানিয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক ডেলিভারি বাজারে ট্র্যাকিং এখন একটি মৌলিক চাহিদা।

এদিকে, অফকম তাদের পরিকল্পনায় বলেছে, প্রথম শ্রেণির চিঠি ৩ দিনের মধ্যে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চিঠি ৫ দিনের মধ্যে ৯৯.৫% ডেলিভারির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। তবে রয়্যাল মেইলের শঙ্কা, এই লক্ষ্য পূরণে বাড়তি খরচ হবে, যা গ্রাহকদের জন্য ডাকমাশুল বাড়িয়ে দিতে পারে। গত সোমবারই তারা প্রথম শ্রেণির স্ট্যাম্পের দাম ৫ পেন্স বাড়িয়ে ১.৭০ পাউন্ড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির স্ট্যাম্প ২ পেন্স বাড়িয়ে ৮৭ পেন্স করেছে।

অন্যদিকে, অফকমের প্রস্তাবে দ্বিতীয় শ্রেণির চিঠি সপ্তাহে বিকল্প দিনে ডেলিভারি এবং শনিবারের ডেলিভারি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম শ্রেণির চিঠি সপ্তাহে ৬ দিনই চলবে। অফকম বলছে, এই পরিবর্তন রয়্যাল মেইলকে বছরে ২৫০ মিলিয়ন থেকে ৪২৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে।

এছাড়া,চেক ধনকুবের ড্যানিয়েল ক্রেটিনস্কির হাতে রয়্যাল মেইলের মূল কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন সার্ভিসেস (আইডিএস) ৩.৬ বিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রির প্রক্রিয়া এই মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। আইডিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন সেইডেনবার্গ বলেছেন, “সর্বজনীন ডাক পরিষেবার সংস্কার এমনভাবে হওয়া দরকার, যা নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং গ্রাহকদের চিঠি ও পার্সেলের চাহিদা পূরণ করে।”

অফকম জানিয়েছে, চলমান পরামর্শ শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে এই গ্রীষ্মে। রয়্যাল মেইল চায়, নতুন নিয়ম ১ জুলাই থেকে কা্যকর হোক।

এই প্রতিবেদনের সূত্র:The Guardian
প্রতিবেদনটি করেছেন:সাইফ হাসান | ওয়ানবাংলানিউজ