সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের কাউন্টি ডারহাম অ্যান্ড ডার্লিংটন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। ভুল ও অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এবং রোগ শনাক্তে দেরির কারণে শত শত নারী গুরুতর আ*ঘাত ও শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তদন্তে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে এবং একজন ভুক্তভোগী মা\রা গেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সাল পর্যন্ত পেছনের আরও প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগীর ফাইল নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন অমার্জনীয় ভুলের জন্য ভুক্তভোগী নারী ও তাঁদের পরিবারের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে ট্রাস্ট বোর্ড।
কাউন্টি ডারহামের এই হাসপাতালে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫৩৮ জন রোগীর চিকিৎসা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। এতে দেখা যায়, ৩২১ জন রোগী চিকিৎসকদের চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমনকি অনেক নারীর প্রয়োজন ছাড়াই পুরো স্তন কেটে ফেলা হয়েছে।
বোর্ডের বিশেষ সভায় ট্রাস্টের প্রধান নার্স গিল হান্ট জানান, ২০১৫ সাল থেকেই এই সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রশ্ন তুলছিল। এখন পর্যন্ত ৬৪০ জন রোগী তাদের পুরোনো চিকিৎসা নতুন করে তদন্তের জন্য হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেছেন। পুরো পর্যালোচনা শেষ করতে আরও প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের একজন ৫১ বছর বয়সী ডেনিস হাওয়ার্থ বলেন, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং এই অনিয়মের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গণতদন্ত হওয়া দরকার। আরেক ভুক্তভোগী ৪১ বছর বয়সী রেচেল গ্রে জানান, মাত্র ৩৭ বছর বয়সে তাঁর অপ্রয়োজনীয় স্তনচ্ছেদ এড়ানো সম্ভব ছিল, যা জেনে তিনি তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন।
রোগীদের পক্ষের আইনজীবী ক্লোয়ি গিবসন বোর্ডের তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সুবিচার পেতে দেরি হওয়া মানেই ভুক্তভোগীদের সুবিচার থেকে বঞ্চিত করা, তাই পুরো সত্য প্রকাশে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।
#ব্রেস্টক্যানসার #চিকিৎসাগাফিলতি #যুক্তরাজ্যসংবাদ #aknews #onebanglanews















