ওয়ানবাংলানিউজ: সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা’য় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টকারী ও শিক্ষক অপদস্তকারী দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও বিশ্বনাথের প্রশসানের কাছে যুক্তরাজ্যস্থ হাইকমিশনের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে লন্ডন হাইকমিশনে হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন প্রবাসী বিশ্বনাথবাসীদের একটি প্রতিনিধিদল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার পেট্রন আলহাজ্ব মানিক মিয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ সভাপতি আলহাজ্ব তৈমুছ আলী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাদশা, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম , লন্ডন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতিত আকলুছ মিয়া, কমিউনিটি নেতা নাসির আহমদ, লুৎফুর রহমান ।
স্মারকলিপিতে বলা হয় বৃহত্তর সিলেটের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মরহুম আল্লামা ইসহাক আহমদ (রহ.)-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা সদরে (বর্তমান পৌরসভার) পুরানবাজারে ১৯৬০ সালে ‘বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা’ স্থাপিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বর্তমানে দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি মাদরাসাটি আইনানুগভাবে একাডেমিক ও পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশ ও এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ নু’মান আহমদ পারিবারিক অসুবিধার কারণে গত ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ থেকে ছুটিতে। তার এ অনুপস্থিতির সময়ে জুলাই ও আগস্ট মাসে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সুযোগে পূর্ব থেকে উঁৎ পেতে থাকা কতিপয় চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারী পরিকল্পিতভাবে সাবেক ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থী ও স্বার্থাস্বেষীরা অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে এলাকাবাসীর নামে গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ রবিবার সকালে মাদরাসা ঘেরাও করে। এসময় তারা মাদ্রাসার স্ব-নামধন্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ নু’মান আহমদসহ মাদ্রাসা ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীগণের বিরুদ্ধে উদ্দ্যেশেমূলক ভাবে নানারূপ মিথ্যা অপবাদ, অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করে অধ্যক্ষের ‘পদত্যাগ’চায়। তারা সশস্ত্র অবস্থায় জোরপূর্বক মাদ্রাসায় ঢুকে অবকাঠামো ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন ছুটিতে থাকলেও বাধ্য হয়ে অধ্যক্ষ মহোদয় মাদরাসার উপধ্যক্ষের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি পত্র দেন। কিন্তু তারা দুস্কৃতিকারীরা এটি গ্রহণ না করে তার অন্যায়ভাবে ‘পদত্যাগ’-এর দাবিতে মাদরাসা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিশৃঙ্খল ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রাখে। পরবর্তীতে তারা মাদরাসার অফিস ও শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করে। এসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারে এসে দুষ্কৃতিকারীরা সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীগণকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। যা আমরা প্রবাস থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লাইভে তাদের কথা অমান্য করে মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে বা তালা খোলার চেষ্টা করা হলে প্রাণে হত্যা করে উচিত শিক্ষা এবং বাড়াবাড়ি করলে মাদ্রাসা ও তাদের বসতবাড়ি জ্বালিয়ে ধ্বংস, হামলা ও লুটপাট করার হুমকি প্রদান করা হয়। যদিও কয়েকদিন পরে তাদের বোধদয় হলে তারা মাদরাসার তালা খুলে দেয়। তবে তারা অধ্যক্ষ এবং আরও কয়েকজন শিক্ষক ‘পদত্যাগ’না করলে তারা পাঠদানের সুযোগ দেবে না বলে হুমকি রাখে। তারা বর্তমানে স্বশরীরে মাদরাসায় এসে এবং স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি অব্যাহত রেখে মাদ্রাসার অফিস কিংবা পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না।
আমরা প্রবাস থেকে ইতোমধ্যে জ্ঞাত হয়েছি যে, দুষ্কৃতিকারীগণের অপকর্মের বিষয়টি মাদ্রাসার গভর্নিংবডির সদস্যবৃন্দ ও অধ্যক্ষ মহোদয় বিশ্বনাথ উপজেলার সকল শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন না করায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
এ অবস্থার মধ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতিসহ ৩ জনকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে এই চক্রটি। যে চক্রটি মাদরাসাকে ধ্বংস করতে চাইছে, পড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে চাইছে তারা তাদেরকে জিম্মি করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছে। সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নাজিম উদ্দিনের আহবানে শিক্ষকদের বেতন ব্যাংক থেকে ছাড় করাতে গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা শফিকুর রহমান, সদস্য ফয়জুল ইসলাম, মো. শামসুল ইসলাম মাদ্রাসায় গেলে শরিষপুর গ্রামের আব্দুল হান্নান, মো. শাহজাহান, আব্দুল খালিকসহ ৩০/৩৫ জন এসে তাদের অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে ফেলেন। তাদের সাথে যোগ দেন মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা নাজিম উদ্দীনও। তিনি ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে স্বীকৃতি দেয়া সংক্রান্ত একটি রেজুলেশন বের করে সেখানে স্বাক্ষর করতে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তারা স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে শারীরিকভাবে অফিসে নাজেহাল করা হয়। এক পর্যায়ে বাধ্য করা হয় মাদরাসার সাদা প্যাডে স্বাক্ষর করতে। পরে আমরা দেখেছি সেটিতে তাদের পদত্যাগের কথা লিখা হয়েছে এবং যে ৩টি পদত্যাগ পত্রের কথা বলা হচ্ছে সেখানে একই হাতের লেখা।
দুষ্কৃতিকারীরা এভাবে নির্বিগ্নে তাদের অকপকর্ম চালাতে থাকায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে যে কোন সময় দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জানমালের চরম ক্ষয় ক্ষতির আশংকা বিদ্যমান রয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বনাথের অধিবাসী প্রবাসী হিসেবে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।
অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “বিশ্বনাথ দারুল উলূম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা”র শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টকারী, সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষক অপদস্তকারী, মাদ্রাসা ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরেদর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ অপপ্রচারকারী সুযোগ সন্ধানী দুষ্কৃতিকারীগণকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।














