টেমস নদীতে ভেসে উঠলো আব্দুল শাকুরের মৃতদেহ

283

ওয়ানবাংলানিউজ: লন্ডনের ক্লাপহাম-কমন এলাকায় ৩১ জানুয়ারি, বুধবার এক মা ও তাঁর দুই মেয়ের ওপর রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে দিয়ে পালিয়ে যাওয়া আব্দুল শাকুর এজিদির লাশ পাওয়া গেছে টেমস নদীতে। সোমবার বিকেল চার টার দিকে যখন টেমসে ভাটা চলছে, তখন টাওয়ার ব্রিজের কাছাকাছি একটি যাত্রীবাহী নৌকার যাত্রীরা নদীর পানিতে মৃতদেহের মতো কিছু একটা দেখতে পান। খবর পেয়ে ছুটে আসে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মেরিন পুলিস। তাঁরা মৃতদেহটি উদ্ধার করার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাপহামের ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, এটি সন্দেহভাজন হামলাকারী আব্দুল শাকুর এজিদিরই মৃতদেহ।

রাসায়নিক হামলার পর টানা ১০ দিন তদন্তকারী পুলিস কর্মকর্তারা আব্দুল শাকুর এজিদিকে ধরতে কঠোর পরিশ্রম করেন। হামলায় ৩১ বছর বয়স্ক নারী গুরুতরভাবে আহত হন এবং ওই নারীর ৮ ও ৩ বছর বয়সের দুই মেয়ে আঘাত পায়। ওই নারীর সাথে সম্পর্ক ছিল আব্দুল শাকুর এজিদির। সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও ওই নারীকে নানাভাবে ফুসলিয়ে দেখা করতে নিউক্যাসেল থেকে লন্ডনে আসে এজিদি। নারী তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে এজিদির গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই নারীর মুখে রাসায়নিক আল্কালাই ছুড়ে মারা হয়।

এরপর গাড়ি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় আব্দুল শাকুর এজিদি। তাঁর গতিবিধি রেকর্ড হয় অনেক সিসিটিভি ক্যামেরায়। এই ফুটেজে গাড় রঙের হুডি পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে এজিদিকে। টাওয়ার ব্রিজ থেকে টেমস নদীর তীর ধরে পশ্চিম দিকে কয়েক ঘণ্টা হাঁটে সে। পুলিস শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, চেলসি ব্রিজে এসে আব্দুল শাকুর এজিদি নদীতে ঝাপ দেয়। এরপর গত ২০ দিনে তাঁর দেহ ভাসতে ভাসতে সাড়ে চার মাইল পেছনে এসে টাওয়ার ব্রিজের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়, যেখান থেকে সে নদীর তীর ধরে হাঁটা শুরু করেছিল। টাওয়ার অফ লন্ডনের লাগোয়া টাওয়ার পিয়ার এর কাছাকাছি স্থান থেকে এজিদির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতি বছর টেমস নদী থেকে গড়ে ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের অধিকাংশই আত্মহত্যা করেন।

এজিদির হামলায় আহত নারী এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

হামলার পর চিরুনি অভিযান চালিয়েও যখন আব্দুল শাকুর এজিদিকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন প্রশ্ন ওঠে এতো লম্বা সময় কীভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্দেহভাজন কোন অপরাধী পালিয়ে থাকতে পারে? শেষ পর্যন্ত এতো প্রশ্নের কিছু উত্তর এনে দিলো টেমস নদী।