জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল আর নেই

1540

ঢাকা সংবাদদাতা: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামাল ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে……রাজিউন)। বৃহস্পতিবার বিকাল চারটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। আগামীকাল বাদ জুম্মা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত মরহুমের দাফনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে চিরকুমার আহমেদ কামাল পর্যটন কর্পোরেশনের জিএম হিসেবে ২০০৬ সালে অবসরে যান। সেই থেকে তিনি সবুজবাগ একটি বাসায় একা বসবাস করছেন। একজন গৃহকর্মী তার রান্না ও ঘর ধোয়ামোছার কাজ করে দিতেন। ব্যাচেলর জীবনকেই স্বাচ্ছন্দ্যময় মনে করতেন তিনি। এস ইসলাম ডন নামে একজন দুঃসম্পর্কের আত্মীয় তার খোঁজখবর রাখতেন। সবাই তাকে আহমদ কামালের ভাতিজা বলে জানেন।

আহমেদ কামাল উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালের জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিদ্ধেশ্বরীর মনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বারডেমে নেয়া হয়।

এর কিছুদিন পর হাসপাতালে বসে গণমাধ্যমে বিএনপিকে নিয়ে দেয়া বক্তব্যে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে জিয়াউর রহমানসহ পরিবারের মৃত সদস্যদের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে তিনি রাজনীতিতে আসছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি আর রাজনীতিতে আসেননি।

জিয়াউর রহমানের বাবা মুহম্মদ মনসুর রহমান আর মা জাহানারা খাতুন। তাদের পাঁচ পুত্র সন্তান। যাদের মধ্যে এখন আর কেউ বেঁচে নেই। জিয়াউর রহমানের বড় ভাই রেজাউর রহমান আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নৌবাহিনীতে ক্যাডেট অফিসার পদে যোগদান করেন। কয়েক বছর নৌবাহিনীতে থাকার পর ইস্তফা দিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশনের পর উচ্চপদের চাকরিতে নিযুক্ত হন। এরপর জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থায়, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চতর পদে কাজ করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় মারা যান।

মনসুর রহমানের তৃতীয় ছেলে ও জিয়াউর রহমানের পিঠাপিঠি কনিষ্ঠ ভাই মিজানুর রহমান অর্থনীতিতে মাস্টার ডিগ্রি লাভের পর ব্যাংকিং সার্ভিসে যোগদান করেন। আরব বাংলাদেশ ব্যাংকের লন্ডন শাখার পরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৯৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

জিয়াউর রহমানের চতুর্থ ভাই খলিলুর রহমান ফার্মেসিতে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি লাভের পর জাম্বিয়া সরকারের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। তিনিও বেঁচে নেই। তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে বসবাস করছেন।