ওয়ানবাংলানিউজ: ৭ নবজাতককে হত্যা ও আরও ৬ নবজাতককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত নার্স লুসি লেটবি আজীবন কারাগারে থাকবেন। প্রত্যেক নবজাতক হত্যার জন্য তাঁকে পৃথকভাবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। এর ফলে তাঁকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে। সোমবার ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টের বিচারক মিস্টার গস এই রায় দেন। বিচারকের শাস্তি ঘোষণার সময়ে আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানান লুসি লেটবি। তিনি তখন আদালত ভবনের বেইসমেনটে হাজতখানায় ছিলেন।
এদিকে শাস্তি ঘোষণার সময়ে আসামীর আদালতে সশরীরে উপস্থিত না হওয়ার ঘটনা নিয়ে অনেক দিন যাবত বিতর্ক এবং আলোচনা চলছে। লুসি লেটবির আগেও অনেক আসামী আদালতে উপস্থিত থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আসামীকে বাধ্যতামূলকভাবে আদালতের ডকে নিয়ে আসার বিষয়ে ইতিবাচক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও।
১০ মাসের বিচারের রায়ে লুসিকে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল শিশু কিলারদের একজন বলা হয়েছে। ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টের শুনানিতে বলা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী নার্স লুসি লেটবি তার তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুদের রক্ত ও পেটে বাতাস প্রবেশ করিয়ে, অতিরিক্ত দুধ খাইয়ে, শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং ইনসুলিন দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিলেন। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কাউন্টেস অব চেস্টার হাসপাতালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় লুসি এসব অপরাধ করেন।
আদালতের শুনানিতে বিচারকদের উদ্দেশে এক আইনজীবী বলেন, লুসি লেটবি বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছিলেন, যা ঘটছিল তা থেকে আনন্দ পাচ্ছিলেন। কী ঘটতে পারে, তা আগে থেকেই অনুমান করছিলেন তিনি। নিজেকে সৃষ্টিকর্তার মতো ভাবছিলেন।’
আদালতের বিচারকদের কাছে লুসি লেটবির হাতে লেখা কিছু কাগজপত্র তুলে ধরা হয়েছিল। এর একটিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি তাদের হত্যা করেছি; কারণ, তাদের পরিচর্যার কাজে আমি অতটা ভালো নই।’ আরেকটি কাগজে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি কখনোই সন্তান নেব না বা বিয়ে করব না। পরিবার কেমন, তা আমি কখনোই জানতে পারব না।’
আদালতে শুনানির সময় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিশুদের কষ্ট দেওয়ার পর মজা পেতেন লুসি। এ ছাড়া বিবাহিত এক চিকিৎসকের সঙ্গে গোপন সম্পর্কও ছিল তাঁর। হাসপাতালে কোনো শিশুর অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ডাকা হতো। ওই চিকিৎসককে কাছে পেতেই শিশুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের অসুস্থ করতেন লুসি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে লুসিকে হাসপাতালে নবজাতক বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, এরপর লুসি ও ওই চিকিৎসক কাজের বাইরে বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলেন। এ ছাড়া তাঁরা নিয়মিত ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে বার্তা আদান–প্রদান করতেন।
২০২০ সালে শিশু হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারের আগেও লুসিকে ২ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় তখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আদালতে শাস্তি ঘোষণার পর আদালতের হাজতখানা থেকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয় লুসি লেটবিকে। সাথে নিয়ে গেছেন ভিকটিম পরিবারগুলোর দুঃখ-বেদনা আর প্রচণ্ড রাগের বোঝা।















