এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি (West Mersea) সমুদ্রসৈকতে ডুবে যাওয়া শ্যালি রহমান (৪১) ও তার মেয়ে সামিহা রহমানের (১৫) জীবন বাঁচাতে তিনবার উত্তাল পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তবে প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও মা ও মেয়েকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
৪২ বছর বয়সী ক্রেইগ বো বিবিসিকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চিৎকার শুনে তিনি পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেয়ের ১০তম জন্মদিন উদযাপন করতে সৈকতে গিয়েছিলেন।
ক্রেইগ জানান, প্রথমে তিনি পানিতে ভেসে থাকা শ্যালি রহমানকে তীরে নিয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন তাকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। এরপর তিনি আবার পানিতে নেমে সামিহা রহমানকে উদ্ধার করেন।
এরপর তৃতীয়বার তিনি সাগরে ফিরে গিয়ে প্রায় ১৫০ গজ দূরে আটকে পড়া ৭ বছর বয়সী এক ছেলে এবং আরেক শিশুকে লাইফবোটে তুলতে সাহায্য করেন। তাঁর ভাষায়, “ছেলেটিও তখন মুখ নিচের দিকে ছিল এবং খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। ঢেউ বারবার মুখে আঘাত করছিল, আর স্রোত ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।”
ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বেড়াতে আসা ওই ৭ বছর বয়সী ছেলে একটি বালুচরে আটকে পড়েছিল এবং জোয়ারের কারণে তীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার পর্যন্ত তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
ক্রেইগের স্ত্রী কার্লি বো সৈকতে অন্যদের সঙ্গে মিলে মা ও মেয়েকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু চাইছিলাম তারা বেঁচে উঠুক। সৈকতে উপস্থিত প্রত্যেকেই তাদের বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।”
নিজেকে নায়ক বলতে নারাজ ক্রেইগ। তিনি বলেন, “এটি কোনো একার কাজ ছিল না। সবাই মিলে চেষ্টা করেছে।”
এদিকে এসেক্স পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তা জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের এগিয়ে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।















