লন্ডনে অবৈধ ই-বাইক ও ই-স্কুটারের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি, ২০২৬ সালে জব্দ ২,৫০০-এর বেশি যান

14

লন্ডনের রাস্তায় অবৈধ ই-বাইক ও ই-স্কুটারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ (Met)। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২,৫০০-এর বেশি অবৈধ ই-বাইক ও ই-স্কুটার জব্দ করা হয়েছে, যা গত পুরো বছরের জব্দকৃত সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে

পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ কমাতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ই-স্কুটার জনসাধারণের সড়কে চালানো আইনত নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ই-বাইক চালানোর জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত মান পূরণ করতে হয়। কোনো ই-বাইক যদি পরিবর্তন করে ঘণ্টায় ১৫.৫ মাইল (২৫ কিমি)-এর বেশি গতিতে চালানোর উপযোগী করা হয়, তাহলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।

মেট পুলিশের এই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কমান্ডার নীরব প্যাটেল বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার অবৈধ দুই চাকার যান জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

টটেনহ্যাম কোর্ট রোডে বিশেষ অভিযান

শুক্রবার টটেনহ্যাম কোর্ট রোড স্টেশনের কাছে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ২৯টি ই-বাইক ও ৭টি ই-স্কুটার জব্দ করা হয়। কর্মকর্তারা সেখানে বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবর্তিত (মডিফায়েড) যানবাহন শনাক্ত করেন।

এটি চলতি বছরে লন্ডনে পরিচালিত সপ্তম বিশেষ অভিযান। গ্রীষ্মকালজুড়ে আরও পাঁচটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন প্রযুক্তিতে ধরা পড়ছে অবৈধ ই-বাইক

মেট পুলিশ বর্তমানে নটিংহ্যামশায়ার পুলিশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মাত্র দুটি বাহিনীর একটি, যারা পোর্টেবল রোডসাইড ‘ডাইনো’ টেস্টিং কিট ব্যবহার করছে।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই পরীক্ষা করা যায় কোনো ই-বাইককে অবৈধভাবে পরিবর্তন করে অতিরিক্ত গতিসম্পন্ন করা হয়েছে কি না। পুলিশের জব্দ করা কিছু ই-বাইক ঘণ্টায় ২৭ মাইল (৪৩ কিমি)-এরও বেশি গতিতে চলতে সক্ষম ছিল।

অপরাধ কমছে বলে দাবি পুলিশের

মেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে লন্ডনের স্থানীয় অপরাধ ১৪ শতাংশ কমেছে, যা প্রায় ৩৫ হাজার কম অপরাধের সমান।

এর মধ্যে ব্যক্তির কাছ থেকে চুরি (Theft from the person) ২৩ শতাংশ এবং ছিনতাই (Personal robbery) ১১ শতাংশ কমেছে। পুলিশ বলছে, এসব অপরাধে অবৈধ ই-বাইক ও মোপেড প্রায়ই ব্যবহার করা হয়।

কমান্ডার নীরব প্যাটেল বলেন, বৈধভাবে ই-বাইক ব্যবহার করা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। তবে অনেকেই এগুলো অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ে অবৈধ ই-বাইকের ব্যবহার একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।