মো: রুহুল আমিন: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপিদের নিয়ে গঠিত হেলথ এন্ড সোশাল কেয়ার কমিটি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্রিটেনের প্রতি ১০টি এনএইচ এস ডেন্টাল প্র্যাকটিসের মধ্যে ৯টিতে কোনো পূর্ণ বয়স্ক দাঁতের রোগী নিচ্ছে না। বিবিসি কর্তৃক গত বছর পরিচালিত এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি ১০ এনএইচএস প্রাকটিসের মধ্যে ৮টি কোন শিশু রোগী নিচ্ছে না। এর ফলে দাঁতের ব্যথায় কাতরাচ্ছে অনেকে।
লন্ডনে ডেন্টাল চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও কম। বিবিসি কর্তৃক গত বছর পরিচালিত এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুইশাম কাউন্সিল এলাকার ৫৩ শতাংশ ডেন্টাল প্রাকটিস পূর্ণ বয়স্ক রোগী নিচ্ছে না; হ্যারো কাউন্সিল এলাকায় এই হার ৮৬ শতাংশ। আর বিপুল বাংলাদেশীর বসবাস নিউহাম কাউন্সিলের অবস্থা শোচনীয়। এই এলাকার কোনো ডেন্টাল প্রাকটিসেই এনএইচএস এর রোগী দেখা হয়না।
নিউহামের বাসিন্দা জো উডকে বলা হয়েছে তাঁর দাঁতের রুট ক্যানাল করতে হবে। কিন্তু তিনি এনএইচএস এর ডেন্টিস্ট পাচ্ছেন না। অর্থাৎ, তাঁকে অনেক টাকা খরচ করে প্রাইভেট ডেন্টিস্টের মাধ্যমে রুট ক্যানাল করাতে হবে। এতে খরচ করতে হবে ১ হাজার ৪শ পাউন্ড। অথবা প্রায় ৪শ পাউন্ড খরচ করে দাঁত ফেলে দিতে হবে।
এমপিদের হেলথ এন্ড সোশাল কেয়ার কমিটি তাদের প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে, অনেকে নিজে নিজেই দাঁতের চিকিৎসা করার চেষ্টা করছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এমন অনেক শিশু আছে যারা কখন দাঁতের ডাক্তারের কাছেই যায়নি।
ডেন্টাল ওয়েলনেস ট্রাস্ট নামের চ্যারিটি লন্ডন সহ সাউথ-ইস্ট ইংল্যান্ডের বড় অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন স্কুলে সেবা দিচ্ছে। এতে দাঁতের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছে স্থানীয় কমিউনিটি।
সরকার জানিয়েছে, প্রতি বছর দাঁতের চিকিৎসায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা হয়। এমপিদের হেলথ এন্ড সোশাল কেয়ার কমিটি এনএইচএস এ ডেন্টাল সেবা বিস্তৃত করতে আরও অনেক কাজ করার সুপারিস করেছে, যাতে প্রতিটি শিশুর মুখে দেখা যায় সুস্থ ও ঝলমলে হাসি।















