খেলাধুলা ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করাটাকে যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন বাবর আজম। মরুর দেশে তিনি তিন অঙ্ক ছুঁলেন আরেকবার। দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখালেন শাদাব খান। তাতে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩২ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
অথচ আবুধাবিতে সোমবার আগে ব্যাট করতে নেমে ১০১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল পাকিস্তান। সপ্তম উইকেটে বাবর ও শাদাব গড়েন ১০৯ রানের দারুণ এক জুটি। তাতে পাকিস্তান পায় ২১৯ রানের পুঁজি। লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা বাদে আর কেউই পাকিস্তানের বোলারদের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংসজুড়ে ব্যাট ‘ক্যারি’ করেও তাই দলের টানা নবম ওয়ানডে হার এড়াতে পারেননি অধিনায়ক।
স্লো উইকেটে শুরুতেই নিরোশান ডিকভেলা ও কুশল মেন্ডিসের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৩০। তৃতীয় উইকেটে থারাঙ্গা ও লাহিরু থিরিমান্নে ৪০ রানের জুটি গড়েছিলেন। তবে তারা খেলেছেন টেস্ট মেজাজে। ৪০ রানের জুটি গড়েছেন ৭২ বলে! আস্কিং রানরেট ততক্ষণে ৫.৫০-র কাছে।
পরের ৩৩ বলের মধ্যে শ্রীলঙ্কা হারিয়েছে ৫ উইকেট! শাদাব খান তার প্রথম তিন ওভারেই নিয়েছেন একটি করে উইকেট। ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর অষ্টম উইকেটে জেফ্রি ভ্যান্ডারসের সঙ্গে ৭৬ রানের জুটি গড়েন থারাঙ্গা। অধিনায়ক তুলে নেন সেঞ্চুরি। তাতে শ্রীলঙ্কার পরাজয়ের ব্যবধানটাই শুধু কমে।
শ্রীলঙ্কার প্রথম ও সব মিলিয়ে ১১তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ইনিংসজুড়ে ব্যাট ‘ক্যারি’ করার কীর্তি গড়লেন থারাঙ্গা। কিন্তু এমন কীর্তির ম্যাচটা জয় দিয়ে রাঙিয়ে রাখতে পারলেন না। ১৪৪ বলে ১৪ চারে ১১২ রানে অপরাজিত ছিলেন থারাঙ্গা। ভ্যান্ডারসের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান। ৪৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার শাদাব।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল ভয়াবহ রকমের খারাপ। ৭৯ রানেই মধ্যেই হারায় ৫ উইকেট। খানিক বাদে সেটি হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১০১! এরপরই বাবর ও শাদাবের ১০৯ রানের ওই জুটি। তাতে পাকিস্তান পায় লড়াইয়ের পুঁজি।
বাবর তুলে নেন সিরিজে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আরব আমিরাতে তার আগের তিন ওয়ানডে ইনিংসেও তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন বাবর। গত বছর সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। একক কোনো দেশে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি নেই আর কারও! ২০১১ সালে ভারতে টানা চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।
১৩৩ বলে ৬ চারে ১০১ রান করেন বাবর। ৬৮ বলে মাত্র একটি চারে ক্যারিয়ার সেরা ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন বাবর। পরে বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনিই।















