সিলেটে সেক্রেটারি গ্রুপের হাতে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত

1209

সিলেট সংবাদদাতা: সিলেট নগরীর টিলাগড়ে নিজ দলের কর্মীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ নির্মমভাবে খুন হয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান গ্রুপের কর্মীরা মোটরসাইকেলযোগে আসা ওমরকে প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ স্থানে ঘেরাও করে কোপায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওমরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হিরণের সঙ্গী ছাত্রলীগ কর্মী তারেক ও নাসিম আহত হয়েছেন। তাদেরকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর সিলেটে ছাত্রলীগের উপ-দলীয় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীর টিলাগড় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ মিয়াদ খুনের ঘটনায় ফখরুল ইসলাম নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে হাসপাতাল এলাকা থেকে আটক করেছে। নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির এলএলবি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ছাত্রলীগে হিরণ মাহমুদ গ্রুপের কর্মী হিসেবে প্রায় তিন বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামে। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে ওমর বসবাস করেন নগরীর বালুচর এলাকায়। তার পিতার নাম আকলু মিয়া। স্থানীয়রা জানিয়েছেন গত তিন দিন আগে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হিরণ মাহমুদ গ্রুপ ও রায়হান গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল ওমর আহমদ মিয়াদ। ওই দিন ঘটনার পর ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এবং কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ছাত্রলীগের সব গ্রুপের কর্মীদের ক্যাম্পাসে যেতে বারণ করে দেন। এ ঘটনার পর গত দুইদিন ধরে ছাত্রলীগের কোনো গ্রুপের কর্মীরা এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যায় নি।

তবে ছাত্রলীগের রায়হান গ্রুপের কর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে নগরীর টিলাগড়ে সব সময় মহড়া দেয়। ছাত্রলীগের হিরণ মাহমুদ গ্রুপের কর্মীরা জানিয়েছেন, এমসি কলেজের ঘটনার জের ধরে রায়হান গ্রুপের কর্মীরা প্রায় সময় ওমর ও তার সঙ্গীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়। এবং তারা টিলাগড়ে এলেই খুন করবে বলে জানায়। তারা জানান, গতকাল বিকাল ৩টার দিকে ওমর, তারেক ও নাসিম মোটরসাইকেলযোগে টিলাগড় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। টিলাগড় মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্র ছাত্রলীগের রায়হান গ্রুপের কর্মী মানিক, ফাহিম ও তোফায়েলের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক কর্মী তাদের পথ আগলে দাঁড়ায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মানিক, ফাহিম ও তোফায়েলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা ওমর সহ তিনজনকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। এ সময় আতঙ্কেক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। ব্যস্ততম তামাবিল সড়কেও যানবাহন চলাচল কমে আসে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা ওমর সহ তিনজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে চলে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ওমর, তারেক ও নাসিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর তারেক ও নাসিমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতরা জানিয়েছেন তারা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পথে রায়হান গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এবং কোনো কথা না বলেই ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর খুনের ঘটনায় হিরণ মাহমুদ গ্রুপের কর্মীরা হাসপাতালে ভিড় জমান। এ সময় হিরণ মাহমুদ সহ গ্রুপের কর্মীরা ওমরের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আর লাশ দেখে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন বাবা আকলু মিয়া। তিনি বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। দাবি জানালেন তার ছেলের খুনিদের গ্রেপ্তারের। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ কেঁদে কেঁদে জানান, ‘আর কত লাশ ফেললে ওরা ক্ষান্ত হবে। ওরা তো একের পর এক লাশ ফেলে মায়েদের বুক খালি করছে। কোনো লাশ যাতে না পড়ে সেজন্য আমি গ্রুপিং-কোন্দল মিটিয়ে দিয়েছিলাম।

এরপরও ওরা পরিকল্পিতভাবে খুন করলো ওমরকে। লাশের রাজনীতি যারা করে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’ এদিকে ঘটনার পরপরই সিলেটের শাহপরান থানার ওসি আক্তার হোসেন অভিযান চালান। খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফখরুল ইসলাম নামের এক কর্মীকে আটক করেন তিনি। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।