ইউকে নির্বাচন: ইশতেহার নিয়ে বিপাকে কনজারভেটিভ

1893

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবীণদের সেবার (সোশ্যাল কেয়ার) পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে ওই ঘোষণা। দলটির এমপি পদপ্রার্থীরাও বাসিন্দাদের কাছ থেকে সোশ্যাল কেয়ার নিয়ে নেতিবাচক সাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বার্ধক্যজনিত কিংবা শারীরিক অসুস্থতার জন্য চলাচল করতে পারেন না, এমন ব্যক্তিদের সরকারি খরচে নিত্যসেবা দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে থেরেসা মে ঘোষণা দিয়েছেন, জীবদ্দশায় প্রয়োজনীয় সেবা নাগরিকেরা পাবেন। তবে সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতা যদি বাড়ির মালিক হন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সেই বাড়ি বিক্রি করে সরকার সেবার অর্থ ফেরত নেবে। এ ক্ষেত্রে বাড়ির দাম এক লাখ পাউন্ড বা তার কম হলে সরকার কোনো অর্থ নেবে না, উত্তরাধিকারী তা পাবে।

থেরেসা মে যুক্তি দিয়েছেন, কেবল কর্মজীবীদের করের অর্থে প্রবীণদের সেবা চলতে পারে না। প্রবীণদের সম্পত্তি থেকে এ অর্থ আদায় করা যৌক্তিক। বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ অন্য দলগুলো সরকারের এমন ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, থেরেসা মে দেশটিকে প্রবীণ বনাম কর্মজীবীতে বিভক্তির কৌশল নিয়েছেন। এই নীতি উত্তরাধিকারীদের আবাসহীন করে তুলবে। অনেকেই কনজারভেটিভ পার্টির এমন অর্থ আদায়ের নীতিকে ‘ডিমেনশিয়া ট্যাক্স’ (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগের ওপর কর) বলে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকার কারণেও সমালোচনা সইতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের।

নির্বাচনী ইশতেহারের বিতর্ক এড়াতে থেরেসা মে-সহ কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতারা গত দুই দিন লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে আবারও ব্যক্তিগত আক্রমণের কৌশল নেন। তাঁরা চাইছেন, অন্য সব বিষয় বাদ দিয়ে নির্বাচনী বিতর্ক থাকুক ব্রেক্সিটকেন্দ্রিক। দলটির এমন চাওয়া সফল হবে না বলেই মনে হচ্ছে। প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস আজ সোমবার কনজারভেটিভ পার্টির প্রবীণ সেবার অর্থ আদায়ের নীতিকে ‘ডিমেনশিয়া ট্যাক্স’ বলে আখ্যায়িত করলে আবারও তীব্র হয় সমালোচনা। সমালোচনা এড়াতে কনজারভেটিভ পার্টি গুগলে বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘ডিমেনশিয়া ট্যাক্স’ সম্পর্কে নিজেদের যুক্তি প্রচার শুরু করে। বিপরীতে লেবার পার্টিও একই রকম বিজ্ঞাপনে কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিশ্রুতিগুলোর গলদ প্রচারে নামে। গুগলের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, আজ যুক্তরাজ্যে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে ডিমেনশিয়া ট্যাক্স বিষয়ে অনুসন্ধানের হিড়িক পড়ে।

শেষ পর্যন্ত এদিন ওয়েলসের এক নির্বাচনী ভাষণে থেরেসা মে সোশ্যাল কেয়ার বিলের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিতর্কে পানি ঢালার চেষ্টা করেন। বারবার তিনি ব্রেক্সিট সমঝোতায় যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে তাঁকে নির্বাচিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিপরীতে ইয়র্কশায়ারে দেওয়া ভাষণে লেবার পার্টির নেতা করবিন ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে চলতি বছর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ফি উঠিয়ে দেবেন। তাঁর এ ঘোষণা বেশ সাড়া ফেলে। বিতর্ক কেবল ব্রেক্সিটময় করার ক্ষমতাসীনদের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।
সূত্র: প্রথম আলো