ওয়ানবাংলানিউজ: এ বছরের ৬ষ্ঠ মুসলিম চ্যারিটি রান অনুষ্ঠিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় পূর্ব লন্ডনের ভিক্টোরিয়া পার্কে। ক্যাম্পেইন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে লন্ডন মুসলিম সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে এবারের আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইস্ট লন্ডন মসজিদ এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারী আয়ুব খান। এ সময় উপস্থিত উপস্থিত থেকে সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরদেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর দিলোয়ার খান এবং ট্রেজারার আব্দুল মালিক। এসময় নেতৃবৃন্দ চ্যারিটি রানে অংশ নিতে কমিউনিটির সকলের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, চ্যারিটি রানে অংশ নিয়ে মসজিদকে ঋণ মুক্ত করতে সহায়তা করুন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিবারেরমতো এবারও ৪ ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। অনুর্ধ ১২ বছর, ১৩ থেকে ১৭ বছর, ১৮ থেকে ৩৪ বছর, ৩৫ থেকে ৫০ বছর এবং ৫১ ও ততোর্ধ বয়স ক্যাটাগরি। এতে বিজয়ীদের মধ্যে আকর্ষনীয় পুরষ্কার প্রদান করা হবে। দৌড়ে অংশগ্রহণে আগ্রহীরা www.muslimcharityrun.com ওয়েবসাইট ভিজিট অথবা ০২০ ৭৬৫০ ৩০০০ নাম্বারে ফোন করে তাঁদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন।
কমিউনিটির ছেলে-বুড়ো-যুবক সর্বস্তরের মানুষকে মুসলিম চ্যারিটি রানে অংশগ্রহণের জন্য আমরা আহবান জানান তারা। তারা বলেন, প্রতিবছর সামার (গ্রীস্মকাল) এলেই কমিউনিটির মানুষ মুসলিম চ্যারিটি রান-এর অপেক্ষায় থাকেন। কারণ এই দিনটিতে তাঁরা খোলা মাঠে একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। দৌঁড়ে, হেঁটে, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
২০১২ সালে আমরা যখন ‘রান ফর ইউর মস্ক’ কর্মসূচি শুরু করি তখন ভাবিনি এটা এতোদূর এগিয়ে যাবে। কিন্তু নাহ, এক বছর, দুই বছর করে এবার এই কর্মসূচি ৬ষ্ঠ বর্ষে পা রাখলো। এটি হয়ে গেছে বছরের একটি সেরা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু ফান্ডরেইজিং নয়, কমিউনিটির মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করাও একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছি। গ্রীস্মকাল এলে মানুষ চ্যারিটি রানের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। অনেকেই ৫ বছর আগে যে দৌড় শুরু করেছিলেন এখন নিয়মিত দৌড়াচ্ছেন। শুরুতে একসাথে ৫ মাইল দৌড়ানোর পর পরবর্তীতে অভ্যাস করে নিয়েছেন।
এখন প্রতিদিন সকালে নিয়মিত দৌড়েন এবং হাঁটেন। মানুষের মধ্যে শারিরীক ব্যায়ামের অভ্যেস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মুসলিম চ্যারিটি রান সত্যিকার অর্থে একটি সফল কর্মসূচি। দিনদিনই এই কর্মসূচি আরো বড় হচ্ছে। তারা বলেন, শুরুতে এই কর্মসূচির নাম ছিলো ‘রান ফর ইউর মস্ক’।
প্রথম তিন বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে এসে কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করে মুসলিম চ্যারিটি রান করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিলো, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্যান্য চ্যারিটি সংস্থাকে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত করা। গত দুই বছর অত্যন্ত সফলতার সাথে এটি মুসলিম চ্যারিটি রান হিসেবে পরিচালিত হয় এবং এই সময়ে আমরা অনেক চ্যারিটি সংস্থাকে আমাদের সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হই। ইতিপূর্বে অংশগ্রহণকারীরা শুধু ইস্ট লন্ডন মসজিদের জন্য ফান্ডরেইজ করতে পারতেন। এখন তাঁরা ইস্ট লন্ডন মসজিদ ছাড়াও অন্য যেকোনো চ্যারিটির জন্য দৌঁড়াতে পারছেন।
নাম পরিবর্তনের কারণে বিগত বছরগুলোতে ইসলামিক রিলিফ, মুসলিম এইড, হিউম্যান অ্যাপিল, জামিয়াতুল উম্মাহসহ ২১টি চ্যারিটি সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ফান্ডরেইজ করে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দুই বছর আগে কমিউনিটির মানুষের সাহায্যে দেড় মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে আমরা মসজিদসংলগ্ন পরিত্যাক্ত সিনাগগ ভবনটি ক্রয় করি। এর মধ্যে ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড আমরা ফান্ডরেইজ করতে সক্ষম হই।
তবে এখনও সিনাগগ ভবন বাবদ ৩শ হাজার পাউন্ড ঋণ রয়েছে। এদিকে মারিয়াম সেন্টার নির্মাণ বাবদ এখনও ২.৮ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ রয়েছে। সুতরাং ইস্ট লন্ডন মসজিদকে পরিপুর্নভাবে ঋণমুক্ত করতে সবমিলিয়ে আমাদের এখনও ৩.১ মিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন। এই ঋণ পরিশোধে মুসলিম চ্যারিটি রান আয়োজন, রামাদ্বানে মসজিদে ও টেলিভিশনে বিশেষ ফান্ডরেইজিং ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমরা আশাবাদী, কমিউনিটির মানুষের দান অব্যাহত থাকবে এবং খুব শিগগিরই আমরা মসজিদকে ঋণমুক্ত করতে পারবো ইনশাল্লাহ।















