ওয়ানবাংলানিউজ: গৃহহীন, মাদকাসক্ত এবং প্রতিবন্ধীদের বিনা বেতনে কাজ করানোর পাশাপাশি তাদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতনের অভিযোগে ব্রিটেনের লিঙ্কনশায়ারের একই পরিবারের ১১ সদস্যকে শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত করেছে নটিংহাম ক্রাউন কোর্ট। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং দাসবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দোষী পরিবার স্থানীয়ভাবে ‘রনি গ্যাং’ বা ‘রনি পরিবার’ (রনি ফ্যামিলি) হিসেবেই পরিচিত। এই পরিবারের সদস্যরা নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও একেবারে কম বেতন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনা বেতনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানোর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য করতো অসহায় মানুষদের, যাদের মধ্যে এক ব্যক্তি এই পরিবারের জন্য প্রায় ২৬ বছর দুর্বিষহ পরিবেশে থেকে কাজ করেছেন। তার হাত দিয়ে তার নিজের কবর খুঁড়িয়ে ভয় দেখানো হয়েছে, কথা মতো মিথ্যা কাজের চুক্তি না করলে তারই খোঁড়া কবরে তাকে মরতে হবে বলে।
২০১৪ সালে লিঙ্কনশায়ার থেকে স্থানীয় পুলিশ এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এক বিশেষ অভিযানে এই পরিবারের কবল থেকে ১৮ বছর থেকে ৬৪ বছর বয়সের ১৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা লিঙ্কনশায়ারের ড্রিনসি নুক এবং ওয়াশিংবারার শেল্টার হোম এবং হোটেল থেকে ভুক্তভোগীদের কাজ দেবার কথা বলে নিয়ে যেত।
তারপর নিজেদের কবজায় এনে তাদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস এবং জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করানোর পাশাপাশি তাদের ব্যাংক একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেরা নিয়ে নিত। এর মাধ্যমে তাদের সীমাহীন কষ্টে অর্জিত সব টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা বিলাসবহুল জীবন যাপনে ব্যয় করতো।
‘অমানুষ’ এই পরিবারটি এছাড়াও স্থানীয় বৃদ্ধ পরিবার, যাদের নামে ঘরবাড়ি-সম্পদ আছে- তাদেরকেও টার্গেট করতো।
রনি গ্যাং বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার সম্পত্তি জোরপূর্বক নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়ে ভোগ করত। এভাবে ৪টি বয়স্ক পরিবারের ৩টি সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড হস্তগত করেছে ওই দোষী পরিবার। তারা ওই সব পরিবারের বয়স্কদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতো- ব্যবহার করতো দাসের মতো। তাদের নিয়ন্ত্রণে থেকে এক বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন, যা তার নিজের পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত জানতে পারেনি।
আগামী সেপ্টেম্বরে দোষী এই পরিবারের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ আদালত।















