ডক্টর এম মুজিবুর রহমান: একঃ ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ যুক্তরাজ্য বিএনপি’র কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। অনেকে মত প্রকাশের নামে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন আবার কারও কারও সহযোগিতার নামে চলছে যথেচ্ছাচার। এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যারা বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে বিএনপি’র ইমেজ ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে যে সৎ নয় এর প্রমান এদের লেখালেখির সুর ও স্বর শেখ হাসিনা এবং তার সাগরেদ পীরবাহিনীর মতো। কারণ তাদের লেখনীর খিস্তিখেউড়ে হিংসা, জেদ ও বিদ্বেষমূলক সমালোচনা ছাড়া একটি ইতিবাচক দিকও উঠে আসেনি। প্রথম কথা হলো তারেক রহমান বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান । বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী ১২টি সংগঠনের সারাদেশব্যাপী থানা ও জেলা কমিটিসমূহের সংখ্যা হিসেবে করলে কতহাজার কমিটি হয় একটু হিসেবে করতে বলবো। বিএনপি একটি বিশাল দল, এর পেইড সদস্য সংখ্যা কোটির উপরে । ম্যাডাম জিয়া বাংলাদেশে থাকেন বলে সকল জেলা কমিটি গঠনে সরাসরি কাজ করতে হয় না। দলে মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম সম্পদাক, সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ রয়েছেন। দলের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামো রয়েছে। এমনিভাবে তারেক রহমান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। ম্যাডাম জিয়ার পরেই দলে তাঁর অবস্থান। ব্যাক্তিগত চিকিৎসার বাইরে তিনি সারা দেশের সামগ্রিক সাংগঠনিক খোঁজ খবর রাখার পাশাপাশি সাংগঠনিক বিন্যাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিবেন এটাই স্বাভাবিক। সারা দেশের অন্য দশটি কমিটি যেভাবে হয় যুক্তরাজ্যের কমিটিও দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই হয়। বাইরের কেউ না জানলেও দলের নেতা কর্মীরা তা ভালো করেই জানেন। এখানে কোনো বিশেষ ভূমিকা রাখার প্রয়োজন পরে না।
দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য থেকেই কমিটি হয়ে থাকে। তবে হ্যাঁ লন্ডনে আছেন বিধায় এবং বাংলাদেশে তৃণমূল রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে গত দুটি লিডার্স মিটিংয়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এটা যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতাকর্মীদের জন্য ছিল অতি গৌরবের ও সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু কমিটি হয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি গঠনের সাথে যারা তাঁকে জড়াতে চান তারা বরং তারেক রহমানের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে অক্ষম।
অপরদিকে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার কারণে এখানকার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে সভা সমিতিতে যোগ দিতে পারেন, বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করার সুযোগ পান। এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র কমিটি গঠনে তিনি ভূমিকা রাখতে যাবেন। কমিটি গঠনের সাথে তাঁর নাম জড়িয়ে ফেলার অপচেষ্টা আমাদের স্বাভাবিক সুস্থ রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। তাঁকে নিয়ে কিছু লোকের বাচালতা আর বিদ্যা বুদ্বির দৈন্যতা দেখে শুধু করুণা হয়।
শহীদ জিয়ার হাতে গড়া সংগঠন বিএনপির মতো বৃহৎ দলে কেউ যেমন অপরিহার্য নয়, ঠিক তেমনি এই দলের সকল নেতা কর্মী দেশনেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে একই পরিবারের সদস্যভুক্ত। দেশের সর্ববৃহৎ এই দলে তথা এই পরিবারে অন্য দশটি পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের মতো নিষ্ঠা ও সততার পাশাপাশি কর্ম দক্ষতাই সফলতার মাপকাঠি। কে কতটুকু জানে তার চেয়ে পরীক্ষার সময়ে কে কত সুশৃঙ্খলভাবে এবং সময়ানুবর্তিতার সাথে নিজের লব্দ জ্ঞানকে উপস্থাপন করতে পারে তার উপর নির্ভর করে পাস্ অথবা ফেল। সফলতার পরীক্ষায় যেমন অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয় ঠিক তেমনি ধ্যৈর্যও এক ধরণের পরীক্ষা। দেশ, জাতি ও কমিউনিটিকে নেতৃত্ব দিতে হলে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটাও জরুরি।
বাংলাদেশে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্র পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সব কমিটি কি সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে তদারকি করতে হয়? রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা সাংগঠনিক নিয়মের মধ্যে চলতে হয়। পাওয়া না পাওয়ার ব্যবধান থাকতে পারে। কিন্তু যোগ্যতা থাকলে কি সময়ের ব্যবধানে গ্যাপ কমানো সম্ভব নয়? আর যোগ্যতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি কি নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল ও বিশ্বাসী থাকা নয়? সব সময় পেয়েই যাব, দুর্দিনে কে থাকবে তার পরীক্ষা হবে কবে? কোনো কোনো সময় পাওয়া না পাওয়ার ফারাক হয়তো একটু বেশি হয়ে যায়। আদর্শিক জায়গা থেকে রাজনীতি করলে এ ব্যবধান কাঠিয়ে উঠা সম্ভব। দেশ সেবার নূন্যতম নিয়ত নিয়ে রাজনীতি করলে যোগ্যতার মূল্যায়ন হবেই হবে। কিন্তু অন্যের দিকে এক আঙ্গুল তুলা মানে নিজের দিকে চারটি আঙ্গুল চলে আসা ।
দুইঃ যুক্তরাজ্য বিএনপি’র কাউন্সিলের পূর্বে কার্যকরী কমিটি ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সভায় সর্বসম্মত কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর পর পহেলা জানুয়ারি বিএনপি অফিসে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ৫ জানুয়ারি কিছু সিদ্ধান্তের কথা নেতা কর্মীকে জানিয়ে দেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক কিছু নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতি জোনাল কমিটি থেকে দুই জন কাউন্সিলারের পরিবর্তে ৫ জন কাউন্সিলার কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করানো হয়। । এর পরে নমিনেশন ফরম ক্রয় করার নির্ধারিত তারিখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা নির্ধারিত ফি পরিশোধপূর্বক ফরম ক্রয় করেন। চূড়ান্তভাবে দুই পদের বিপরীতে দুইজন ছাড়া বাকি কেউ নমিনেশন জমা দেন নাই। এটা দলের কার্যকরী কমিটির একটি অভ্যন্তরীণ নির্বাচন। যারা কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন তারা যেমন দলের নেতা ও কর্মী ঠিক তেমনি যারা নমিনেশন ফরম ক্রয় করেও জমা দেন নাই তারাও দলের নেতা ও কর্মী। এখানে জয় পরাজয়ের কিছু নেই। সবাই দলের সদস্য এবং দলের কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গভাবে জড়িত থেকে কাজ করার অধিকার রয়েছে। যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের নেতৃত্বে সবাই একই উদ্দেশ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনামতে দলের গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।
তাই ৫ জানুয়ারির প্রতারণার নির্বাচনের সাথে এটাকে যারা গুলিয়ে ফেলতে চান তাদের উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ হতে পারে না। সবচেয়ে বড় কথা কাউন্সিলে মোট ২২১ জন (দুইশত একুশ জন) কাউন্সিলারের মধ্যে ১৭৫ জন (একশত পঁচাত্তর জন) কাউন্সিলার উক্ত কাউন্সিলে উপস্থিত হয়েছিলেন যা কাউন্সিলারদের স্বাক্ষরসহ উপস্থিতি তালিকাভুক্ত করা হয়।
কাউন্সিলে নেতৃবৃন্দ যার যার অভিমত ব্যক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং নির্বাচনী কার্যপ্রণালী বিধি মোতাবেক যারা নমিনেশন দাখিল করেছেন তাদেরকে নির্বাচিত হিসেবে ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করেন। কাউন্সিলারের বক্তব্য শোনার পর নির্বাচন কমিশনে প্রতিটি পদের বিপরীতে একজন করে দাখিলকৃত বৈধ নমিনেশনের বিষয়টি জানিয়ে হাত তুলে কাউন্সিলারবৃন্দের মতামত দেয়ার আহবান জানানো হয়। উপস্থিত কাউন্সিলারবৃন্দের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তখন হাত তুলে এম এ মালিক এবং কয়ছর এম আহমদের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। এসময় কেউ এব্যাপারে দ্বিমত করেন নাই ।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল মোতাবেক প্রতিটি পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থী থাকায় এবং ১৫ জানুয়ারির কাউন্সিলে উপস্থিত কাউন্সিলারবৃন্দের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি পদে এম এ মালিক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কয়ছর এম আহমদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রের অনুমোদনের জন্য প্রেরন করা হবে বলে উপস্থিত কাউন্সিলারবৃন্দ এবং মিডিয়াকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবহিত করেন ।
এর পরেও যারা বুঝে অথবা না বুঝে শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারির প্রতারণার নির্বাচনের সাথে সব গুলিয়ে ফেলেন, তাদের সম্পর্কে বলার কিছু নেই । শুধু বলবো, দুর্জনের যুক্তির অভাব হয় না! তবে কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যকে ঢিল ছোড়া নিরাপদ নয়। গাজার নৌকা পানিতেও ভাসে, আকাশেও উড়ে। তবে স্মরণে রাখা দরকার, ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। এই কমিউনিটিতে আমরাও বসবাস করি। বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন অবজার্ভ করা থেকে শুরু করে অংশগ্রহণ এবং পরিচালনা করার সুযোগ হয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী যৌক্তিক অভিযোগ না করলে নির্বাচন নিয়ে কেউ কথা বলতে শুনি নাই। এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী না হয়ে পরের দিন একই ধরণের সংগঠন করার নজিরও দেখেছি।
দেশে একটা জলজ্যান্ত ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র বিরাজ করছে। অক্টোপাসের মতো গিলে খাচ্ছে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সর্বোপরি রক্তে কেনা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। এ নিয়ে দুই লাইন লেখা দূরের কথা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে গিয়ে স্তুতি আর বন্দনা করেই নিজেকে মেলে ধরতে তাদেরই অনেকের নূন্যতম লজ্জাবোধ হয় না। নিজের সহকর্মীর লাশের উপর দিয়ে স্বৈরাচার আর জবর দখলদারের উচ্ছিষ্টভোগীরা গুম, খুন, লুটপাটের বিরুদ্বে একটি টু শব্দ করার সাহস দেখান না। তাদেরই কেউ কেউ দলের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কথা বলেন তখন নির্দ্বিধায় বলা যায়, এদের উদ্দেশ্য আর যাই হোক সৎ হতে পারে না। যেমন ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যআওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের আর কোনো কাউন্সিল এবং কমিটি হয় নাই । যারা তিলকে তাল করে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছেন তাদের মনে কি এই প্রশ্ন আসে না যে, নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি গঠিত হলেও কেন হচ্ছেনা যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের কমিটি? না কি সরকারি দলের বিরুদ্বে কথা বলার মুরোদ নাই বলে? না কি চেতনায় আঘাত লাগে বলে?
তিন: স্বীকার করি সীমাবদ্বতা রয়েছে, সময়ের সাথে সাথে আরো উন্নত ও টেকসই করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সেটা কি ওভারনাইট হয়ে যায়? রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি সেক্টরের মানুষকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু বিদ্বেষমূলক সমালোচনা নয়, ভালো পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে উন্নত পন্থার নির্দেশনা থাকতে হবে। সমাজ সংস্কৃতি বিকশিত হয় ধাপে ধাপে, পর্যায়ক্রমে, এক লাফে নয়। তাই বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার বন্দ্ব করে কর্মদক্ষতার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। আমাদের মনে রাখা উচিত, যোগ্যতমেরাই ঠিক থাকে (সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট)।
এছাড়া আমরা যদি শেখ হাসিনা ও তার ভন্ড পীর বাহিনীর সুর ও স্বরে না গেয়ে ইতিবাচক দিকটা দেখি, তাহলে দেখবো তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করার কারণেই সময়মতো যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি গঠন হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে, তারেক রহমান কমিটি করেছেন । তিনি কমিটি গঠনে দলের মধ্যে আদর্শিক ও গঠনতন্ত্র চর্চা করেন বলেই তার প্রভাব যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে। বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটি পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে প্রবর্তিত এক নেতার এক পদ চালু করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। যারা মনে করেন বিগত দিনে কমিটি গঠনের সময় তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন বলে তিনি নিজে কমিটি করেছেন, তাহলে তাদের বিগত দিনের তৃণমূল নেতা কর্মীদের বক্তব্য শুনতে বলবো। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকলের মনের আকাঙ্খার সাথে শ্রদ্ধা রেখেই বলবো, যারা মনে করেন বিগত দুটি কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে সব সময় থাকতে হবে, ধারণাটি সঠিক নয়। দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাকে কাছে পেলে সবাই খুশি হবেন এটাই স্বাভাবিক। আবার মাঝে মধ্যে কিছু দায়িত্ব কাঁধে চলে আসলে নিজেদের পরিপক্কতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগও নেয়া উচিত।
কাউন্সিল নিয়ে দলের বাইরের যারা বিচ্ছিন্নভাবে লিখছেন তাদের বক্তব্যের জবাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি পত্রিকায় লিখে আলোচনা করতে চাই নাই। কারণ এদের একটাই টার্গেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার। অনেকে আবার দলের শুভাকাঙ্খী সেজে দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টিতে কাজ করেন। এসব চাণক্যবাদী কূটচালে সবাই কমবেশি ওয়াকিফহাল । তবে মাঝে মধ্যে দলের অনেক নেতা কর্মীরা বিভ্রান্ত যে হন না, তা বলবো না । তাই এসব কর্মকান্ডকে ঠিকমতো যাচাই বাছাই করতে পারলে ভবিষ্যত চলার পথে সতর্ক নজরদারি করা সম্ভব।
কিছু কিছু শিক্ষিতজন রয়েছেন, এরা প্রায়ই রাজনীতিবিদের পিণ্ডি চটকাতে এক ধরণের আনন্দ অনুভব করেন। খুব ফ্যাশনের কাজ, নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য বিশেষ করে সরকারের বাইরে যারা রয়েছেন তাদের আন্দোলন, নেতৃত্ব নিয়ে বুজুর্গি! কথাবার্তা বলেন, কী সাংঘাতিক চেষ্টা। ভাবখানা এমন, দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব পালন করা শেষ, এবার চলো জম করে আড্ডা দেই । সুবিধাবাদের ও কাপুরুষতার চূড়ান্ত লক্ষণ! তাই দেশের গণতন্ত্রহীনতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মানুষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের অগণতান্ত্রিকতা, গণবিরোধিতা ইত্যাদি দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন যে, বাংলাদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী তার পচঁনশীলতার সর্বনিম্নে গিয়ে পৌঁছেছে। সে প্রতিদিন গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা চায়, সে প্রতিদিন বর্তমান অবস্থা থেকে পরিবর্তন চায়, কিন্তু তার বিরাট অংশ সেই পরিবর্তনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে মোটেই রাজি নয় এইরকম অবস্থায় পতিত হয়েছে।
এখানে সমাজের সবাই পরিবর্তন চাইবে অথচ সমাজ নিজে পরিবর্তনের জন্য কিছু করবে না। তার তেল চকচকে ভূরি অক্ষুন্ন রাখবে, তার পান থেকে চুন খসবে না অথচ পরিবর্তন চাইবে। দেশ বিদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা একটা মননশীল সমাজ, কমিউনিটি তথা রাষ্ট্র চান কি না। আর চাইলে তার জন্য যার যার অবস্থান থেকে রোল প্লে করবে কি না? দেশ জাতি তথা সমাজ ও সভ্যতাকে সঠিক জায়গায় ধরে রাখা এবং যুগোপযুগী করে বিকশিত করার দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদের নয়। সমাজের অপরাপর স্টেকহোল্ডারদের সাময়িক মোহ ও ভোগের মানসিকতা ত্যাগ করে নিপীড়িত ও নির্যাতিতদের বিরুদ্বে নয় বরং নিপীড়ক ও শোষকের বিরুদ্বে কথা বলার সাহস সঞ্চয় করতে হবে।
পরিশেষে বলবো, সভ্য এবং যৌক্তিক মানুষের প্রধান গুণ হচ্ছে বুদ্বিমত্তা এবং পরিমিতবোধ। কোনো কিছু লিখতে জানলেই লেখক হওয়া যায় না। অনেকের লেখালেখি দেখে মনে হয় আমরা এখনো পাবলিক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার মতো সভ্য ও ভব্য হয়ে উঠতে পারি নাই। একাডেমিক শিক্ষা ছাড়াও পারিবারিক ও স্বশিক্ষায় বিবেক জাগ্রত করা সম্ভব। তাই বিজ্ঞানের বিকাশকে কাজে লাগিয়ে হানাহানি, পাশবিকতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো নয় বরং মানব সভ্যতাকে বিকশিত করার প্রত্যয়ে নিজের বিবেক ও মনুষত্বকে জাগ্রত করার দৃপ্ত অঙ্গীকারে আবদ্ব হই। (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)।
লন্ডন ২২ জানুয়ারী ২০১৮।
লেখক: ডক্টর এম মুজিবুর রহমান ।
শিক্ষক ও গবেষক। সাবেক সহকারী অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
নিচে প্রথম পর্বের লিংক দেয়া হল
যুক্তরাজ্য বিএনপির কাউন্সিল: তারেক রহমানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার (প্রথম পর্ব)















