জাপানি জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের অনুমতি দিল ইরান

47

জাপান তার মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সংগ্রহ করে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ইরান বলছে, জাপানের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে যা ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান এখন এই কৌশলগত জলপথে বাছাইভিত্তিক অবরোধ নীতি গ্রহণ করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার জাপানের কিয়োদো নিউজকে বলেন, “আমরা প্রণালী বন্ধ করিনি। আমাদের মতে এটি খোলা আছে। এটি শুধুমাত্র আমাদের শত্রুদের জাহাজের জন্য বন্ধ যেসব দেশ আমাদের ওপর আক্রমণ করে। অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি নিরাপদে পারাপারের উপায় বের করতে। আমরা নিরাপদ পথ দিতে প্রস্তুত। তাদের শুধু আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই পথ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছিল, কোনো জাহাজ এই পথে চলাচলের চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে, ফলে সামুদ্রিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

তবে গত এক সপ্তাহে ইরান তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করে জানিয়েছে, প্রণালী শুধুমাত্র শত্রু দেশগুলোর জন্য বন্ধ থাকবে।

চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো কিছু দেশের পর জাপানও শিগগিরই সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে, যাদের জাহাজগুলো ইরানের অনুমতিতে এই জলপথ ব্যবহার করতে পারছে।

লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজ ইরানের উপকূল ঘেঁষে বিকল্প “নিরাপদ করিডোর” ব্যবহার করে প্রণালী অতিক্রম করেছে।

এদিকে, যুদ্ধ তিন সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রসহ বেশ কিছু দেশ ইরানের কাছে প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া বা তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

এছাড়া ইরাক, মালয়েশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তান বিষয়টি নিয়ে সরাসরি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগির সঙ্গে ফোনালাপে জাপান উপসাগরে আটকে থাকা তাদের জাহাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।