এবার আফগানিস্তান থেকে কুকুর-বিড়াল সরানো বিতর্কে বরিস জনসন

329

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। লকডাউনের ভেতর জন্মদিনের পার্টি করা নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি চাপে রয়েছেন। এখন আবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ফাঁসকৃত একটি মেইলে দেখা যাচ্ছে, গত আগস্টে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বরিস জনসন দেশটি থেকে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কুকুর-বিড়ালদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তালেবান কাবুল দখলের পরবর্তী মুহূর্তে আফগানিস্তান থেকে প্রাণী সরানোর নির্দেশনা দেখে সমালোচকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কাবুল থেকে মানুষ সরানোর থেকে কুকুর-বিড়াল সরানোয় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এতে করে অনেক আফগান যারা ব্রিটিশ সেনাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল, তারা আফগানিস্তানে রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি কমিটি গত আগস্টের একটি ইমেইল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রী জনসনের নেওয়া সিদ্ধান্ত ‘নওজাদ অ্যানিমাল চ্যারিটি’র কর্মী এবং প্রাণীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২১ সালের ২৫ আগস্ট বৈদেশিক কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন (কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) দপ্তর থেকে ‘স্পেশাল কেসেস’ টিমকে পাঠানো ইমেইলে লেখা হয়—সাবেক মেরিন কর্মকর্তা কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান (নওজাদ অ্যানিমাল চ্যারিটি) ব্যাপক প্রচারণা পেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের কর্মী এবং প্রাণীদের আফগানিস্তান থেকে স্থানান্তরে অনুমোদন দিয়েছেন।

যদিও বরিস জনসন অগ্রাধিকারভিত্তিতে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং প্রাণীদের সরানোর নির্দেশনা দেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন।

ডাউনিং স্ট্রিট বুধবার প্রধামন্ত্রী জনসনের দাতব্য সংগঠন ‘নওজাদ’ প্রসঙ্গে ফাঁস হওয়া ইমেইলের অস্বীকৃতির পুনরাবৃত্তি করেছে। প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস বলেছেন, প্রাণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্বলিত কোনো আদেশ প্রধানমন্ত্রী দেননি।

মন্ত্রী থেরেসা কফি বলেন, আফগানিস্তান থেকে স্থানান্তরে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

এই মন্ত্রী আরও বলেন, এখন অনেক মানুষ বলবে প্রধানমন্ত্রী তাদের বিশেষ প্রাণী প্রকল্পে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে প্রধানমন্ত্রী এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

কনজারভেটিভ দলের জ্যেষ্ঠ এমপি তুগেনধাতও একই রকম বলেছেন। এই এমপি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের স্ত্রী ক্যারি প্রাণী অধিকার কর্মী হওয়ায় কিছু সিভিল সার্ভেন্টস কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর নাম ভঙিয়ে এমনটি করেছেন।