ঢাকা সংবাদদাতা: দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মহত্যাকারী দুই বাংলাদেশির আত্মহত্যার ১১ দিন পার হলেও আত্মহত্যার প্রকৃত রহস্যের জট খোলেনি।
দুই বাংলাদেশির আত্মহত্যার পর থেকে বিষয়টি তদন্ত করেও কি কারণে এসব বাংলাদেশি নাগরিক আত্মহত্যা করেছে বা এটি আসলে আত্নহত্যা কিনা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে নরসিংদীর আবদুল জলিল আত্মহত্যা করেছে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছেন,দোকান মালিকের অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আবদুল জলিল আত্মহত্যা করে।
তবে আবদুল জলিলের পক্ষ থেকে নিকটস্থ থানায় কোনো মামলা দায়ের করেনি কোনো বাংলাদেশি নাগরিক। তাই পুলিশ রেকর্ডের স্বার্থে একটি ইউডি মামলা দায়ের করে লাশের পোস্ট মর্টেম সম্পন্ন করেছে।
আবদুল জলিল ২৬ ডিসেম্বর নদার্ণ ক্যাপে আলম মিয়া নামক একজন বাংলাদেশির দোকানে চাকরি করা কালীণ সময়ে আত্মহত্যা করে।
তবে আত্মহত্যার ধরণ দেখে অধিকাংশ বাংলাদেশি নাগরিক এটিকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বল্লেও একই এলাকায় বসবাসকারী দুই একজন বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন,আব্দুল জলিল ২ মাস আগে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা আসে,আসার সময় সম্পূর্ণ টাকা ঋণ করে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে পাওনাদার তার পরিবারকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে পরিবার জলিলকে প্রতিনিয়ত ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকে।
এক পর্যায়ে জলিল ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে দোকান মালিকের অজান্তে দোকানের পেছনে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। অপরদিকে একইভাবে জোহানসবার্গ শহরে ২৭ ডিসেম্বর সুভাষ চন্দ্র নামের অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক আত্মহত্যা করে।
সুভাষ চন্দ্রকেও একইভাবে গলায় রশি দেয়া অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে সুভাষের লাশের ঝুলে থাকা দৃশ্য দেখে প্রাথমিক বিবেচনায় সকল বাংলাদেশির মনে হয়েছে কে বা করা সুভাষকে হত্যা করে টয়লেটে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
এ ব্যাপারে অনেক তদন্ত করেও হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি এবং পুলিশের নিয়মিত মামলা ছাড়া সুভাষের পক্ষ থেকে কোনো মামালা দায়ের হয়নি।
আবার সুভাষের সঙ্গে থাকা কোনো বাংলাদেশি এ ব্যাপারে মুখ খুলেনি। তবে কয়েকজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন,দেশে প্রেমঘটিত কারণে প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে সুভাষ আত্মহত্যা করে।নিহত সুভাষের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে।















