ঢাকা সংবাদদাতা: গ্রেফতার আতঙ্কে বুধবার শেষ রাতেও রাজধানীর কাকরাইলে যুবলীগ কার্যালয়ে কয়েকশ’ ক্যাডার নিয়ে অবস্থান করেন মহানগর যুবলীগের আলোচিত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। নেতাকর্মীদের নিয়ে একরকম মহড়াই দিয়েছেন তিনি। তাকে গ্রেফতার করা এত সহজ হবে না বুঝাতেই সাঙ্গপাঙ্গ বেষ্টিত থাকছেন ক্যাসিনো সম্রাট নামে খ্যাত এই যুবলীগ নেতা।
অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বুধবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর হাজারখানেক নেতাকর্মী নিয়ে সংগঠনের কার্যালয়ে অবস্থান নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তিনিও ঢাকার অন্তত একটি ক্যাসিনোর মালিক, সেই সঙ্গে একাধিক ক্যাসিনোর টাকা ভাগাভাগির সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে যুবলীগ থেকে শোকজও করা হয়েছে।
দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর যুবলীগের কাকরাইল কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী। তাদের ধারণা, চলমান অভিযানে গ্রেফতার হতে পারেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। সেজন্য তারা কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন। কার্যালয়ে অবস্থান করা একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
রাত ৩টার পরেও কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই আসে। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকে। এটা নতুন কিছু না।’
অন্যদিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে কিনা জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত নই। আইনত যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে।’
রাতে কাকরাইল এলাকায় দায়িত্বরত রমনা থানার এসআই রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘রাত ২টার দিকে কার্যালয়ের দুপাশে নেতাকর্মীদের দেখে এসেছি। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না।’
বুধবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসা এবং ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতে একযোগে অভিযান চালায় র্যাব সদস্যরা।
ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।
অপরদিকে গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ গ্রেফতার করে র্যাব। লাইসেন্সের শর্তভঙ্গের অভিযোগে বাসা থেকে উদ্ধারকৃত দুটি অস্ত্র জব্দ করে র্যাব।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। যুবলীগের কয়েক নেতা সম্পর্কেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর পর বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা খালেদকে গ্রেফতার করল র্যাব।
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে।
আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরও দমন করা হবে।
যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী ওইসব কথা বলেছিলেন বলে জানান অনেক নেতা।
যুবলীগের একটি সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে অভিযোগের খবর আসার পর প্রথম পর্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে শোকজ করা হয়। এর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার আবারও তাদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। আগামী শনিবার তাদের শোকজের জবাব দেয়ার কথা রয়েছে।
এই যখন অবস্থা তখন বুধবার ফকিরাপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র্যাব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ক্লাবটির সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অনেক দিন ধরে এখানে জুয়াসহ নানা অপকর্ম চলছিল। সাম্প্রতিককালে অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াংমেন্স ক্লাবের পর ওই রাতেই ঢাকার আরও তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যাব।
বুধবার রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যাব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।















