পর্দার শয়তানের সঙ্গে ট্রাম্পের হুবহু মিল

সাক্ষাৎকারে বললেন ‘ইট’ সিনেমার পরিচালক

337

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভয়ংকর দর্শন আর ঠাণ্ডা মাথার ঘাতক। দিনের বেলায় নর্দমার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যা হলেই বের হয়। আর সুযোগ পেলেই ভুলিয়ে-ভালিয়ে ধরে নিয়ে যায় শিশুদের।

এক সময় ভীতসন্ত্রস্ত সেই শিশুদেরকেই খেয়ে ফেলে। ‘কিং অব হরর’ বা ‘ভূতের গল্পের রাজা’ খ্যাত ঔপন্যাসিক স্টিফেন কিং’র সবচেয়ে ভয়ংকর উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

ভাঁড়রূপী শয়তান পেনিওয়াইজ। কিংয়ের গল্প নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হয়েছে সিনেমা, যা বিশ্বজুড়ে পর্দা কাঁপাচ্ছে। কিন্তু আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলা এ সিনেমার পরিচালক বলছেন, পেনিওয়াইজ কিংয়ের সৃষ্টি একেবারেই কাল্পনিক কাহিনী হলেও বাস্তবেও এমন ভয়ংকর শয়তান রয়েছে।

পর্দার শয়তানের সব বৈশিষ্ট্য ও চরিত্রই তার মধ্যে বিরাজমান। সেই শয়তান আর কেউ নন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে সিনেমার পরিচালক অ্যান্ডি মুশিয়েত্তি বলেন, ‘ট্রাম্পের কাজকাম হুবহু ওই ভাঁড়রূপী শয়তানের মতোই।’

আর্জেন্টিনার এই পরিচালক আরও বলেন, পর্দার শয়তান সবসময় ছলনায় আশ্রয় নিয়ে নিখোঁজ শিশুদের দ্বিধান্বিত করার চেষ্টা করে। শিশুদেরকে তাদের বিরুদ্ধেই ক্ষেপিয়ে তোলে।

এভাবে তাদেরকে দুর্বল করে ফেলে। আরও বলেন, ‘এভাবেই শয়তান শিশুদের মন জয় করার চেষ্টা করে। এক সময় সে সফল হয় এবং অবশেষে তাদের খেয়ে ধ্বংস করে।’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পর্দার শয়তানের তুলনা করে তিনি বলেন, ট্রাম্পও সবসময় নানা ছলনায় মার্কিনিদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তাদের এক অংশকে আরেক অংশের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই জনগণকে ধ্বংস করে এক সময় বিজয়ী হচ্ছেন। সাড়াজাগানো হরর ছবি ‘দ্য কনজ্যুরিং’কে বিবেচনা করা হতো সর্বকালের সেরা ভৌতিক সিনেমা।

কিন্তু ২০১৭ সালে উদ্বোধনী আয়ে ‘কনজ্যুরিং’কে হঠিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় অ্যান্ডি মুশেত্তির ‘ইট’। স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস ‘ইট’ অবলম্বনে ১৯৮৮ সালের পটভূমিতে নির্মিত এ সিনেমায় জর্জি নামের সাত বছর বয়সী এক বালকের গল্প বলা হয়েছে।
এক ঝড়-বৃষ্টির দিনে কাগজের নৌকা নিয়ে খেলতে থাকা জর্জির সঙ্গে দেখা হয় ভাঁড়রূপী শয়তানে। ভুলিয়ে নর্দমার কাছে নিয়ে তাকে খেয়ে ফেলে শয়তান। গত শুক্রবার ছবির দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পেয়েছে।

মুশিয়েত্তি বলেন, আমরা যে বাস করছি, তার সঙ্গে সিনেমার কাহিনীর একটা গভীর সংযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে চারদিকে একটা ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে।