রুমিন ফারহানার প্লটের আবেদন নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

347

ঢাকা সংবাদদাতা: সরকারের কাছে বিএনপি মনোনীত সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্লট চেয়ে আবেদন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে।

রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়ার বিষয়টি কেউ কেউ অনৈতিক বললেও তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি (জাফর) আয়োজিত কাজী জাফরের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন।

রুমিনের পক্ষ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছোটখাটো কোনো বিষয় নিয়ে পাগলের মতো ফেসবুকে দেয়ার কোনো বিষয় নেই। আপনাকে দেখতে হবে মূল লক্ষ্যে আমরা যাচ্ছি কি না। আমি কার কথা বলছি, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।

ব্যারিস্টার রুমিনের প্লট চাওয়া নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে খবর প্রকাশের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কার কথা বলছি আপনারা বুঝতে পারছেন। পত্র-পত্রিকাও শুরু করেছে এই ধরনের …, এখন একেবারে ড্রাম বাজিয়ে শুরু করেছে, রুমিনের (রুমিন ফারহানা) বিরুদ্ধে একটি অবস্থান তৈরির জন্য। রুমিন তো অন্যায় কিছু করেননি। হতে পারে বিষয়টি তার জন্য আনইথিক্যাল হয়েছে।

সংসদে রুমিন ফারহানার জোরালো বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রুমিন জোরালোভাবে পার্লামেন্টে ভেতরে-বাইরে সবখানেই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে। সবখানেই গণতন্ত্রের জন্য কথা বলে। খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলে। সুতরাং আমাদের এই চিন্তাভাবনার লোক যারা আছেন, তাদেরকে অনুরোধ করব, দয়া করে আপনারা তার বিরুদ্ধে বা অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো কমেন্ট করবেন না। এতে ক্ষতি হবে আন্দোলনের।

ফেসবুকে রুমিন ফারহানাকে নিয়ে লেখালেখি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনার লোক যারা আছেন তাদের অনুরোধ করবো- দয়া করে আপনারা ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে বা অন্য কারও বিরুদ্ধে এবং আমাদের লোক কারও বিরুদ্ধে কোনো কমেন্ট করবেন না, লিখবেন না। এটা ক্ষতি হবে আন্দোলনের। বরং তাকে পরামর্শ দিন তার কি করা উচিত, কোনভাবে যাওয়া উচিত।

ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা মনে করেন একা একাই পারব, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। কখনোই এসব ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল হবে না যদি জাতিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ না করতে পারি। এটাই আমাদের দায়িত্ব।

নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন গ্রামে-বন্দরে মানুষের কাছে ছড়িয়ে যেতে হবে, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। যে কথা আমি বারবার বলি- এ কাজটা তরুণদের, যুবকদের। শুধু ফেসবুকে একটা ছবি দিলে আন্দোলন হবে না। মানুষকে সংগঠিত করে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীমের পরিচালনায় স্মরণসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) জাফরুল্লাহ খান লাহরী এবং প্রয়াত কাজী জাফর আহমদের জ্যেষ্ঠ কন্যা কাজী জয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।