আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি টানা দ্বিতীয়বারের সরকার গঠনের পর দেশটিতে মুসলমানদের জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ানো ও মুসলিম যুবকদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে।
এবার দেশটির উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান না দেয়ায় মারধর করার অভিযোগ ওঠেছে।
এ নিয়ে শহরটিতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, এমন উত্তেজনার কারণে উন্নাও শহরে ব্যাপক পুলিশ আর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলার দারুল উলুম মাদ্রাসা পরিচালক মো. নাঈম জানান, তার মাদ্রাসার ছাত্রদের জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় জি আই সি ময়দানে কয়েকজন ছাত্র ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল। ১২-১৪ বছরের কয়েকজন ছাত্র যখন ওই মাঠে খেলছিল, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি হাজির হয়ে ব্যাট কেড়ে নিয়ে `জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ার জন্য জোরাজোরি করতে থাকে। আমাদের ছাত্ররা ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে অস্বীকার করে। তখন ওই ক্রিকেট ব্যাট দিয়েই ছাত্রদের আক্রমন করে তারা। এতে কয়েকজন ছাত্রের মাথা ফেটে যায়।
মাদ্রাসা পরিচালকের এমন অভিযোগে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। এরমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওই দুইজনকে আটকের পর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি,পুলিশ একতরফাভাবে তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।
এ ঘটনা নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় শহরজুড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ, যাকে উত্তরপ্রদেশে প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি বা পিএসি বলা হয়, সেই বাহিনীও নিয়ে আসা হয়েছে।















