বিশ্বনাথের সাবেক প্রধান শিক্ষক তজম্মুল আলীর ইন্তেকাল : তার সংক্ষিপ্ত জীবনি

3716

জাকির হোসেন কয়েছ: বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী রামসুন্দর অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ দশকের সাবেক প্রধান শিক্ষক, হেড স্যার নামে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব তজম্মুল আলী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না—রাজিউন। তিনি মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় সিলেটে তার নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি এক পুত্র ও দুই মেয়ে, নাতী-নাতনি রেখেছে। তারা সকলেই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
তার মৃত্যু খবর জানাজানি হলে দেশে বিদেশে তার হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশে যখন সদ্য প্রায়ত তজম্মুল আলীর ছাত্র-ছাত্রীরা ঘুমিয়ে তখন প্রবাসী ছাত্র-ছাত্রীরা স্যোশাল মিডিয়ায় খবরটি প্রচার করেছেন ঝড়ের বেগে। প্রধান শিক্ষকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া কামনা করা হচ্ছে ফেইসবুক ও ওয়াটসআপে।
মরহুম তজম্মুল আলীর একমাত্র পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রহমান এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

এক নজরে স্যারের জীবনি
মুহাম্মদ তজম্মুল আলী ১৯৪২ সালের ২৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম ছিপত আলী পন্ডিত। মাতা মোসাম্মৎ সায়রা বানু। তার গ্রামের বাড়ী বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর মোল্লাবাড়ী। তার প্রাথমিক শিক্ষা ধর্মদা স্কুলে। ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লালাবাজার হাই স্কুলে। ৯ম ও ১০ শ্রেনী রামসুন্দর হাই স্কুলে। ১৯৫৬ সালে ঐ বিদ্যালয় হতে মেট্রিকুলেশন। ১৯৫৮ সালে এমসি কলেজ থেকে আই.কম। ১৯৬০ সালে বিএ। ১৯৬৫ সালে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সস্টিটিউট হতে এম এড। ১৯৬০ সালে রামসুন্দর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক, তারপর সহ প্রধান শিক্ষক এবং ১৯৬৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক। ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটান।
তিনি উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বিশ্বনাথ কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

মরহুম তজম্মুল আলীর একমাত্র পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজান এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।