বিতর্কিত রুশ আইনজীবীর সঙ্গে ট্রাম্প জুনিয়রের বৈঠকের খবর ফাঁস

689

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৯ জুন ট্রাম্প টাওয়ারে তারা প্রথম বৈঠক করেন। সরকারি তথ্য ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রেসিডেন্টের তিন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে সেদিন কথা হয় এক রুশ নাগরিকের। এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের ছেলে। তিনি দা্বি করেন এটা একটি সৌজন্য সাক্ষাত ছিলো। তিনি বলেন, বৈঠকটি মূলত রুশ শিশুদের মার্কিন নাগরিক কর্তৃক দত্তক নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ‘সেই সময় আমরা নির্বাচন নিয়ে কোনও কথা বলিনি। পরিচিত হবার জন্য আমরা সবাই সেদিন একত্রিত হয়েছিলাম।’

২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মার্কিন নাগরিকদের রুশ শিশু দত্তক নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ভ্লাদিমির পুতিন। ঘটনার শুরু হয় ২০০৯ সালে মার্কিন পরিবারে বড় হওয়া এক রুশ শিশু একা রাশিয়া ফিরে আসার পর। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি পরিবারে বড় হয় জাস্টিন হ্যানসেন নামে ওই রুশ শিশু। সে বছরের ৮ এপ্রিল হঠাৎ একা একা বিমানে চেপে মস্কো এসে হাজির হয় সে। হাতে একটা চিরকুটে লেখা ছিলো, ‘এ ছেলে খুবই উচ্ছৃঙ্খল। সে ভয়ংকর সব সহিংস কাজকর্ম করছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাকে রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ বৈধভাবে দত্তক নেওয়া একটি শিশুকে এভাবে বিনা নোটিশে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় নড়েচড়ে বসে রাশিয়া। এরপরই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওই আইনের ব্যাপারেই সেদিন বৈঠকে কথা হয়েছিলো বলে দাবি করেন ট্রাম্পের ছেলে।
টাইমস জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া রুশ আইনজীবী নাতালিয়া ভ্যাসেলনিতকায়া দেশটির সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীর স্ত্রী। ২০০৯ সালে রাশিয়ার কারাগারে এক রুশ আইনজীবী মারা যাবার পর গত ডিসেম্বরে ম্যাগনিটস্কি অ্যাক্ট নামে একটি বিল পাস করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বেশকিছু সিনিয়র রুশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই মার্কিন নীতির বিরোধীতাকারী হিসেবে সুপরিচিত ভ্যাসেলনিতকায়া।

মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগের বিষয়টি জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও পুতিন বৈঠকে উড়িয়ে দেওয়ার একদিন পরই এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করলো নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২০১৬ মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই ও কংগ্রেসনাল কমিটি। জ্যারেড কুশনারের আইনজীবী জেমি গোরলিক বলেন, ‘কুশনার বেঠকে অল্প সময় ছিলেন। আর সেসময় তিনি তিনি ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শতাধিক বৈঠক করেছিলেন। আর এই বিষয়ে তিনি সবসময়ই খোলামেলা কথা বলেন।’