লন্ডনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

ফরহাদ মজহারকে অপহরণ নাটকে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ

1034

ওয়ানবাংলানিউজ: বিশিষ্ট লেখক, কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অজ্ঞাত বাহিনী কর্তৃক উঠিয়ে নেয়া এবং উদ্ধারের ঘটনাকে ‘নাটক‘ অভিহিত করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, যুক্তরাজ্য শাখা। পূর্ব লন্ডনের আফতাবআলী পার্কে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে পেশাজীবী নেতারা বলেন, ফরহাদ মজহারকে অপহরণ নাটকে স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুশিয়ারি দিয়ে অবিলম্বে ফরহাদ মজহারকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এবং সকল ধরণের গুম-হত্যা-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।

সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের যুক্তরাজ্য শাখা এ সমাবেশের আয়োজন করে। পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশ নেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাস্টনিউজ সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারী, দৈনিক আমার দেশ-এর সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক আখতার মাহমুদ, ব্যারিস্টার তমিজ উদ্দীন,

ব্যারিস্টার আশরাফুল আলম চৌধুরী, ইনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল)-এর শিক্ষক ড. খন্দকার রুহুল আমিন, সাংবাদিক এম মাহাবুবুর রহমান, নারীনেত্রী ফেরদৌস রহমান, এশিয়ানবাংলা‘র নির্বাহী সম্পাদক মাহবুবা জেবিন, লন্ডনবাংলা প্রেস ক্লাবের নেতা সাংবাদিক এমএ কাইয়ুম, সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার গোলাম জাকারিয়া, বিএনপি নেতা শরীফুজ্জামান তপন চৌধুরী, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম মামুন, এমদাদ হোসেন টিপু, নাসির আহমেদ শাহীন, আবুল হোসেন, মাওলানা শামীম আহমেদ প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী নেতা ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান, আতিকুর রহমান পাপ্পু, তাজউদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা পারভেজ মল্লিক, নাজমুল হাসান জাহিদ, জাহাঙ্গীর আলম শিমু, মাহাবুবুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান, সোহেল আহমেদ, নারী নেত্রী অঞ্জনা আলম, সাংবাদিক আবদুর রকীব, লেখক মো. সাইফউল্লাহ, মানবাধিকার কর্মী ফরিদুল ইসলাম, লেখক মো. আবু তালেব, যুবনেতা মো. শাহজাহান, মো. খালেদ মিয়া, মো. আবুল ালাম আজাদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে অপহরণের পর রাত ১০টার পরে যশোরে হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের নাটক করে র‌্যাব। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এরপর তাকে যশোরের অভয়নগর থানায় আটক রাখা হয়। এর আগে গত রোববার আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতে হিন্দু জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ভারতে গরুর মাংস বহন বা খাওয়ার অপরাধে মুসলমান হত্যার ঘটনায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কড়া সমালোচনা করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ মজহারও অংশ নেন। ধারণা করা হচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম আয়োজক ছিলেন ফরহাদ মজহার। এছাড়া গোড়া থেকেই ফরহাদ মজহার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের একজন কড়া সমালোচক।

লন্ডনে সোমবার বিকেলে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশে বক্তারা অপহরণের ঘটনাকে জনগণের মৌলিক বাকস্বাধীনতা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্বের ওপর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃটেন প্রবাসী বাংলাদেশী বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী এবং পেশাজীবীরা এই সংগঠনটির সদস্য।

সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ভারতের হিন্দু জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের ২৪ ঘন্টা পার না হতেই বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহারকে অপহরণ নাটক করা হলো। মূলতঃ তাকে অপহরণের পর সোসাল মিডিয়ায় জনগণের চাপ এবং বিশ্ব মানবাধিকার কর্মীদের তোপের মুখে তাকে উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছে। এটা স্পষ্টতই বাংলাদেশকে সার্বভৌমত্বহীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের ইঙ্গিত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললে অপহরণ হতে হবে, এটা আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রকে প্রশবিদ্ধ করেছে। সরকারকে এর জবাবদিহিতা করতে হবে। ফরহাদ মজহারকে অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ বলেন, যদি সংবাদ সম্মেলনের জেরে এমন ঘটনা ঘটে, এটা বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে বিলীন করার ষড়যন্ত্র বলেই আমরা মনে করি। এমন ঘটনায় ক্ষমতাসীন সরকারকে পদত্যাগ করে জনগণের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।

জাস্টনিউজ সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও চিন্তককে অপহরণের ঘটনায় বাংলাদেশের মিডিয়া দায়িত্বহীন আচরণ করেছে। বিশ্ব মিডিয়া, সোসাল মিডিয়া ও মানবাধিকার কর্মীদের ভুমিকার মুখে আমরা ফরহাদ মজহারকে জীবিত ফেরত পেয়েছি।

সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে বসে আপনি ভারতের বিরুদ্ধে কথা বললেই গুম-অপহরণের শিকার হবেন। টিপাইমুখের বিরুদ্ধে কথা বলে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। মাহমুদুর রহমান দীর্ঘ কারাবাস করেছেন। এবার ভারতে হিন্দু জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হলো।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার মাহমুদ বলেন, একটি সুপরিকল্পিত সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া চলমান অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে না। এজন্য গণমুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই গড়ে তুলতে হবে।