শ্বাসরোধে ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষকে হত্যা করে একাধিক ব্যক্তি

720

ঢাকা সংবাদদাতা: রাজধানীর ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে একাধিক ব্যক্তি শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে লাশের ময়মনাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে আমরা দেখতে পাই, মৃত নারীর ঠোঁটে, মুখে, আঙুলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটা আঙুল ভাঙা ছিল। তাঁকে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।’

‘এই হত্যাকাণ্ড একজনের পক্ষে সম্ভব না। একাধিক ব্যক্তি এই হত্যার সঙ্গে জড়িত,’ যোগ করেন ময়মনাতদন্তকারী চিকিৎসক।

সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সুকন্যা টাওয়ারের ১৬/সি নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। তিনি সত্তরের দশকের ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহসভাপতি ইসমত কাদির গামার স্ত্রী। গতকাল রাত ৮টায় বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর থেকেই ওই বাসায় কর্মরত দুই গৃহকর্মী রেশমা (৩০) ও স্বপ্না (৩৬) নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তারাই মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যা করে পালিয়েছে। গতকাল রাতেই তাদের দুজনকে আসামি করে মামলা করেন ইসমত কাদির গামা।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার এ বিষয়ে বলেন, ‘পলাতক দুই কাজের মহিলাকে চিহ্নিত করা গেছে। তাদের একজনের বাড়ি শরীয়তপুর, আরেকজনের বাড়ি মাদারীপুর। তাদের ধরতে আমরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছি।’

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সাংবাদিকদের ময়নাতদন্তের ব্যাপারে অবহিত করেন চিকিৎসক।

এর আগে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেন নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কান্তি দে। তিনি সুরতহালে উল্লেখ করেন, ‘মুখে রক্ত দেখা যায়, হাতের কয়েকটি আঙুলে কালো দাগ আছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে স্বামী ও সন্তানরা বাসায় না থাকায় বাসার কাজের মেয়ে ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।’

এদিকে ইসমত কাদির গামা ঢামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ প্রথমে ইডেন মহিলা কলেজে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে বাদ আসর এলিফ্যান্ট রোডের বায়তুল নুর জামে মসজিদে জানাজা সম্পন্ন করা হবে। পরে বনানী সামরিক কবরস্থানে মাহফুজা পারভীন চৌধুরীকে দাফন করা হবে।