জাতীয় ঐক্যের ৫ দফা অসাংবিধানিক: কাদের

567

ঢাকা সংবাদদাতা: জাতীয় ঐক্যের পাঁচ দফা দাবিকে অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর, অপ্রয়োজন ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে সংগঠনটির ৪১তম কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি নির্বাচনে না এলে যুক্তফ্রন্টই বিএনপির বিকল্প কি না সাংবাদিকদের এমন লিখিত প্রশ্নে তাদের বলেন, সেটা আমরা জানি না। তবে আমরা জানি বিএনপি না এলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব নাই, বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি কোন সুযোগ নাই। সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এবার নির্বাচিত হবে।

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে নির্বাচনের দাবির প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘আমরা কি যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, আমরা কি সাউফ সুদান, কঙ্গো, ইরাক, জিম্বাবুয়ে? বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন স্বার্বাভৌমত্ব বাংলাদেশে সংবিধানই নির্বাচন পরিচালিত হবে। এখানে কোন ব্যত্যয় করার সুযোগ নাই। শেখ হাসিনা সরকারই তত্ত্বাবধান করবে এবং নির্বাচন কমিশনই এ নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের বিকল্প কোথায়? আমাদের বিকল্প হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। যাদের দুঃশাসনে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। সেই নির্যাতন অন্ধকারে কি কেউ ফিরে যেতে চান? আমরা মনে করি না আমাদের সবকিছু শুদ্ধ, আমাদের ভুলত্রুটিও আছে কিন্তু ভুল ত্রুটি সংশোধনের সৎসাহস শেখ হাসিনার রয়েছে। তিনি বলেন, দলের মধ্যে কেউ অন্যায় করলে তাকে আমরা শাস্তি দিই। কিন্তু আমাদের বিকল্প যারা ভাবেন, তারাতো নিজেদের লোকদের শাসন করেন নাই।

সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের দাবি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই দাবিগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় ও অসাংবিধানিক। এখন সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার করারতো প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে আমাদের দেশে। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।

‘এক দেড় মাস বাকি আছে। এখন মামাবাড়ির আবদার করলে তো চলবে না। সংসদের শেষ অধিবেশন অক্টোবর মাসের ২০ তারিখের আগেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর আর সংসদ বসবে না নির্বাচন পর্যন্ত। এ সংসদ সদস্যদের কোন ক্ষমতা ও কার্যকরিতা থাকবে না। কাজেই এটা ভেঙে দেয়া, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো রেখে এবং অকার্যকর এর মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়, আমি বুঝতে পারি না।’

‘নির্বাচন সেনা মোতায়েন হবে না, এটা আমরা বলব না। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন হবে। যদি সময় এবং পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা দরকার হয়। সেই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে, সরকার প্রয়োজনে এবং বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে কীভাবে মোতায়েন হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে।’

কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠনের সময় এখন নাই, এখানে তো বিএনপিরও প্রতিনিধি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই রাষ্ট্রপতি এ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

আইডিইবির সভাপতি এ কে এম হামিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান।