ঢাকা সংবাদদাতা: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলায় পটুয়াখালীর ইসহাক সিকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সোমবার সকালে মৃত্যুদণ্ড রায় ঘোষনা করেছে আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি চার আসামি হলেন- আব্দুল গণি হাওলাদার, আব্দুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আউয়াল, আব্দুস সাত্তার প্যাদা ও সুলাইমান মৃধা।
নিয়ম অনুযায়ী, এই রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন আসামিরা।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হচ্ছে ৩৪তম রায়।
বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টায় রায় ঘোষণা করেন। পাঁচ আসামিকে আগেই কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান শুরুতেই কাঠগড়ায় উপস্থিত আসামিদের নাম জানতে চান। পরে রায় পড়া শুরু করেন।
১৫৯ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়েন বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর ইটাবাড়িয়া গ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, ১৭ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের সবাইকে মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ওই গ্রামের অন্তত ১৫ নারীকে ধর্ষণের ঘটনাতেও একই সাজার রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ছিলেন জেয়াদ আল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আ. সাত্তার পালোয়ান।
এর আগে গত ৩০ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত বছর ৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর এই পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর এর পর তাদের আটক করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। তবে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।















