সামান্য ক্ষতি !!

1304

ব্রিটিশ তারকা ভিক্টোরিয়া বেকহাম ওবিই খেতাবে ভূষিত হলেন । ফ্যাশনে বিশেষ অবদান রাখায় ‘ডিউক অফ কেমব্রিজ’ প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এই বিশেষ সম্মান গ্রহণ করেন । অভিনন্দন স্পাইস গার্ল ।

এই ছবিটির ডানদিকে রয়েছেন ঐক্য ও ন্যায়বিচারের প্রতীক ব্রিটেনের রানী আর বামদিকে রয়েছেন বাংলাদেশের মাদার তেরেসা হিসাবে সুপরিচিত সৈয়দা ইকবালমান্দ বানু । সেই ষাটের দশকে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছিলেন তিনি । সৈয়দা ইকবালমান্দ বানু তাঁর জীবনের স্বর্ণালি সময়টুকু পার করেছেন অসহায়, অবহেলিত, নিপীড়িত মানুষের সেবা  করে । ত্রিশ বছরেরও বেশী কাল ধরে তিনি তার সমস্ত সম্পদ দান করে দিয়েছেন মানবতার কল্যাণে । যেভাবে তিনি অসহায় অবহেলিত ছিন্নমূল  মানুষের মাঝে আলোকবর্তিকা হয়ে তাদের অন্ধকার জীবনে আশার আলো দেখিয়েছেন, ব্রিটিশ নাগরিক হলে তিনিও হয়তো ওবিই, এমবিই খেতাবে সম্মানিত হতে পারতেন । কিন্তু আফসোসের বিষয় তিনি জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশে । এবং তার চেয়েও দুর্ভাগ্য যে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে ।

সুরভীর চেয়ারম্যান সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুর বিরুদ্ধে সরকারের পকেট প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মিথ্যা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে । এই আদেশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমির’ কথা মনে করিয়ে দেয় । সবকিছু দান করে এমনকি নিজের সারাটা জীবন আর্ত মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেও সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুকে দুদকের মামলায় জর্জরিত হতে হলো ।  তাও কিনা দেশ ও সরকার যখন ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলবাজী, চাঁদাবাজি, অন্যায় অত্যাচারে নিমজ্জিত ।

পরে অবশ্য একই আদালত সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুর জামিন আবেদন মঞ্জুর করে । আশাকরি এরপর আদালত তার চোখের উপরকার কালো ঠুলিটি সরিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে সঠিক রায় দিবে ।

সৈয়দা ইকবালমান্দ বানু অন্তরালে থেকে নিরলস ভাবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন । প্রচার বিমুখ এই নারী নিজের পুরোটা জীবন উৎসর্গ করেছেন সমাজের অসহায়, অবহেলিত, নিগৃহীত মানুষের জন্য । উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নিজের সম্পদকে ভোগ বিলাসে ব্যয় না করে, নিঃস্বার্থ ভাবে দান করেছেন দরিদ্র, অবলম্বনহীন মানুষের জন্য । গড়ে তুলেছেন ‘সুরভী’ নামক প্রতিষ্ঠান । যার মাধ্যমে সমাজের ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষা দেবার পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে একেকজন দক্ষ কর্মক্ষম মানুষ হিসাবে । যে ব্যাক্তি তার সারা জীবন ব্যয় করেছেন অবহেলিত মানুষের জন্য, যে ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পদ দান করেছেন দরিদ্র মানুষের জন্য, মানুষের সেবা করাই যার ধর্ম, প্রায় আশি বছর বয়স্ক সেই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কতখানি অমানবিক হলেই শুধু গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়া যায় । ভাবখানা এমন যেন উনি এখনই পালিয়ে যাচ্ছেন তাকে এখনই লকআপে ভরে রাখতে হবে । যেখানে আমরা অহরহ দেখছি খুনের আসামি মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।

পৃথিবীর ইতিহাসে তৃতীয় শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত রানা প্লাজা ধ্বসের চার বছর অতিক্রান্ত হল । কই ১ হাজার ১৭৫ জন মানুষের হত্যাকারী রানার তো কিছু হয়নি । হাজার হাজার মানুষের হাহাকার আহাজারির কোন শব্দ কামরুল হোসেন মোল্লাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করছে না । তারা শুধু আওয়ামি সরকারের বিরোধী মত ও আদর্শের মানুষকে হেনস্তা করছে । যেভাবে পারছে মিথ্যামামলা দিয়ে, হত্যা করে, হামলা করে, গ্রেফতার গুমের ভয় দেখিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দিচ্ছে ।

সবশেষে আবারো রবীন্দ্রনাথের ‘সামান্য ক্ষতি’র কথা পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই । শুভ্রতার প্রতীক হিসাবে বাংলাদেশের গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে নীরব বিপ্লব ঘটানো সৈয়দা ইকবালমান্দ বানুকে শুধুমাত্র তারেক রহমানের শাশুড়ি হবার কারনে শুধুমাত্র হয়রানি করার হীন উদ্দেশে বৃহৎ সরকারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে । এতে করে সরকারের কিছু না হলেও দীনহীন অনাথদের কাছে অনেক কিছু । কারন সৈয়দা ইকবালমান্দ বানু তাদের কাছে মাথার উপরের ছাদ, বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে চলা নিশ্চিত আশ্রয়, তাদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষার যোগানদাত্রী, তার চেয়েও বড় কথা তিনি হলেন অকৃপণ মাতৃস্নেহের আধার, বেঁচে থাকার অবলম্বন ।

এভাবে দানশীল, মানবতাবাদী, জনহিতৈষী ব্যাক্তিদের যদি দুদক নামক পচা শামুকের দ্বারা অপদস্ত হতে হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আর কেউ জনকল্যাণে এগিয়ে আসবেনা । কারন কেউই চাইবেনা পরের উপকার করতে গিয়ে নিজের গায়ে নিন্দার কালিমা লাগাতে । তাই অকারণে সৎ ভদ্রলোকের পিছনে সরকারি টাকা সময় ব্যয় না করে প্রকৃত অসৎ, অন্যায়কারী, দোষী ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের সম্মুখীন করার এখনই সময় ।