কারাগারে স্থান সংকট: গার্হস্থ্য নির্যাতনকারীদের মুক্তির পরিকল্পনায় সমালোচনার ঝড়!

52

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে স্থান সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এর আওতায় এক থেকে চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত কিছু গার্হস্থ্য ও যৌন নির্যাতনকারী, যারা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে, তারা মাত্র ২৮ দিন কারাবাসের পর মুক্তি পাবে। ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন। সরকার বলছে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধীদের এই সুবিধা দেওয়া হবে না।

১৫ মে, ২০২৫ তারিখে বিচার সচিব শাবানা মাহমুদ জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। নতুন নিয়মে, এক থেকে চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে শুধু ২৮ দিন কারাবাস করবেন। সরকারি সূত্র জানায়, “অনেক গার্হস্থ্য নির্যাতনকারী এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বে, তবে সবাই নয়। এটি তাদের ঝুঁকির মাত্রার ওপর নির্ভর করবে।” তবে কতজন নির্যাতনকারী মুক্তি পাবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের গার্হস্থ্য নির্যাতন কমিশনার নিকোল জ্যাকবস বলেন, “চার বছরের সাজা এমন অপরাধীদের দেওয়া হয় যারা ভুক্তভোগী বা জনসাধারণের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি। ২৮ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরো বলেন, “মন্ত্রীরা সব নির্যাতনকারীকে বাদ দিতে পারছেন না, কারণ কারাগারে কতজন গার্হস্থ্য নির্যাতনকারী আছে, তা তারা জানেন না।” ভুক্তভোগীদের কমিশনার হেলেন নিউলাভ বলেন, “এই স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা বিচারের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে।”

বিরোধী দলের ছায়া বিচার সচিব রবার্ট জেনরিক এই সিদ্ধান্তকে “অত্যন্ত অজনপ্রিয়” এবং “জনগণের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ” বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “শাবানা মাহমুদ বিচার বিভাগের অতিরিক্ত আদালত দিবসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরিবর্তে তিনি অপরাধীদের তাড়াতাড়ি মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” টরি সাংসদ গ্যাভিন উইলিয়ামসন জানতে চান, কতজন গার্হস্থ্য নির্যাতনকারী এই সুবিধা পাবে। বিচার মন্ত্রী নিক ডাকিন বলেন, “আমি তাকে লিখে জানাব।”

লেবারের বিচার বিষয়ক কমিটির চেয়ার অ্যান্ডি স্লটার বলেন, “এই সংকট পূর্ববর্তী সরকারের দায়। বর্তমানে ১৩,০০০-এর বেশি বন্দী পুনরায় কারাগারে ফিরেছে, যা কারাগারের জনসংখ্যার ১৫%।” তিনি পুনরায় কারাবাসের সংখ্যা পর্যালোচনার দাবি জানান। সরকার জানায়, চার বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত, সন্ত্রাসী বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধীরা এই সুবিধা পাবে না। তবে এই পরিকল্পনা ভুক্তভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian