ফাঁসিতে ঝুলছে এক পরিবারের ১০ জন

473

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঘরের ছাদ থেকে ঝুলছে সারিবদ্ধ মরদেহ। এক, দুই…..সব মিলিয়ে মোট ১০ জনের লাশ। তাদের সবার চোখ, মুখ আর হাত বাঁধা। বাড়ির সবচেয়ে বয়স্ক নারীর মরদেহ পড়ে আছে অন্য একটি ঘরে।

শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বুরারি এলাকার থেকে এই ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একসঙ্গে একই পরিবারের সব সদস্যের এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা শহরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

ঝুলন্ত যে ১০ মরদেহের মধ্যে দুইজন পুরুষ, ছয়জন নারী এবং দুইজন ১৫ বছর বয়সী শিশু। এছাড়া ৭৭ বছরের গৃহকর্ত্রী নারায়ণ দেবীর লাশ পরেছিল পাশের এক ঘরে। তবে এটি কি হত্যা না আত্মহত্যা এখনও তদন্তকারীদের কাছেও স্পষ্ট নয়। তবে ওই পরিবারের সদস্যেরা অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাস করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, নিহতদের বাড়ি থেকে হাতে লেখা যে নোট পাওয়া গেছে তাতে লেখা রয়েছে, ‘শরীর কিছু নয়, আত্মই সব।’

বুরারি এলাকার সন্ত নগরের ২৪ নম্বর সড়কের দোতলা বাড়িটিতে গত ২০ বছর ধরে বাস করছে এই পরিবারটি। দুই ছেলে ভবনেশ (৫০) ও ললিত (৪৫) ব্যবসা করতেন। বাড়ির নীচেই একটি মুদির দোকান ছিল ভবনেশের। ললিতও বাড়ি থেকেই কাঠের ব্যবসা করতেন।

শনিবার রাত পৌনে বারোটা নাগাদ মুদির দোকানটি বন্ধ হয় বলে জানান স্থানীয়েরা। এমনিতে রোজ সকাল ছ’টার মধ্যে দোকানটি খুলে যায়। তবে ওইদিন সাড়ে সাতটা বেজে গেলেও দোকান খোলেনি। দুধের ভ্যান এসে বার বার হর্ন দেয়ায় ভাটিয়াদের বাড়িতে ঢুকতে যান গুরচরণ সিংহ নামে এক প্রতিবেশী। দরজা খোলাই ছিল বলে জানান তিনি। ভিতরে ঢুকতেই ঝুলম্ত দেহগুলি চোখে পড়ে তার। তখনই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

৭৭ বছরের নারায়ণ দেবীর দেহ একটি ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। তাকে শ্বাসরোধ করা হয়েছিল প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। নয়জনের দেহ ছাদ থেকে ঝুলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক জনের দেহ ঝুলছিল জানালা থেকে। নিহতদের সবার চোখ, মুখ ও হাত বাঁধা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরো জানিয়েছেন, বাড়ি একদম পরিপাটি রয়েছে। কোনও জিনিস খোয়া গিয়েছে বলেও জানা যায়নি। বাড়িতে বেশ কিছু হাতে লেখা নোট পেয়েছে তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, ওই নথি দেখে মনে হয় ভাটিয়া পরিবার অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাস করত।

ওই পরিবারে একটি পোষা কুকুর রয়েছে। কেবল সেই কুকুরটিই জীবন্ত ছিল। তদন্তকারীদের মতে, রাতে কুকুরটি চেঁচামেচি করেনি। ফলে বাড়িতে বাইরের কোনও হত্যাকারী আসার সম্ভবনা নেই। তাদের ধারণা, পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য অন্যদের খুন করে পরে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন।

এদিকে রোববার দুপুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল এবং দিল্লির বিজেপি প্রধান মনোজ তিওয়ারিও।

এই পরিবারের আদি বাড়ি রাজস্থানে। ভবনেশ এবং ললিতের আরও এক ভাই রয়েছেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। থাকেন রাজস্থানের চিতোর শহরে।

সূত্র: এনডিটিভি/ আনন্দবাজার