নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে কড়া ব্যবস্থা: রিটার্নিং কর্মকর্তা

515

ঢাকা সংবাদদাতা: নির্বাচনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করলে, সে প্রার্থী, সমর্থক কিংবা প্রশাসনের কেউ হলেও, তার বিরুদ্ধে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল।

সোমবার নগরীর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের দোতলায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, যদি কেউ নির্বাচনে অন্যায়-অনিয়ম করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কড়া মেসেজ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের কাজে যদি বিঘ্ন সৃষ্টি করে, সে প্রার্থী হতে পারে বা সমর্থক হতে পারে, … বা কোনো অফিসিয়াল হতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আমরা কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রসঙ্গত, রাত পোহালেই গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রায় এগারো লাখ আটত্রিশ হাজার ভোটারের নগরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মেয়র পদে ৭, কাউন্সিলর পদে ২৫৬ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ৮৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল বলেন, আমি মনে করি, আমরা অত্যন্ত ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান করব। এক্ষেত্রে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছি। নির্বাচন কমিশন থেকেও জানানো হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। সাড়ে ১১ লাখ ভোটার যাতে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে, আমরা সেটার ব্যবস্থা করেছি।

নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের প্রায় ১৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফিফটি পার্সেন্ট মহিলা ভোটার, তারা যেন ভোটগ্রহণের দিন বাড়িতে বসে না থাকে, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি। আমি মনে করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তীতে একটি সুন্দর মেসেজ যাবে, সংসদ নির্বাচন যাতে ভালো হয় সে ব্যাপারে।

রকিব মণ্ডল আরো বলেন, ভোটারদেরকে আমরা বারবার বলেছি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং বিভিন্ন লিফলেট, হ্যান্ড বিল এবং মাইকিং করে বিভিন্ন তথ্য ও ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো জানানো হয়েছে… নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।

তিনি বলেন, “গাজীপুর হল শিল্প এলাকা। শিল্প এলাকার ফিফটি পার্সেন্ট ভোটার। এসব এলাকার ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে, সেজন্য বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং অন্যান্য অফিস-আদালতও বন্ধ থাকবে, যাতে সকল ভোটার নির্বিঘ্নে তাদের ভোট কাস্ট করতে পারে।

পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সভাতেও ‘কড়া বার্তা’ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে রকিব মণ্ডল বলেন, আমরা স্পষ্ট বলে দিয়েছি, প্রশাসন বা কোনো কর্তৃপক্ষ যদি নির্বাচনে বাধার সৃষ্টি করে, প্রত্যক্ষভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে সোমবার দিনভর নগরীর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়াম থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এরপর প্রিজাইটিং অফিসার ও ভোটিং কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় সেগুলো নিয়ে যান কেন্দ্রে কেন্দ্রে।

গাজীপুরে ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেবে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া তিনটি কেন্দ্রে বসানো সিসি ক্যামেরা থেকে সরাসরি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নজর রাখতে পারবে নির্বাচন কমিশন।