কাতার সঙ্কটের উন্নতি হয় নি, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, অবরোধ শিথিলের আহ্বান বৃটেনের

938

ওয়ানবাংলানিউজ: কাতার সঙ্কটের কোনো উন্নতি ঘটেনি। উল্টো এ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছে অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন থেকে বলা হয়েছে, কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ অত্যন্ত জটিল এক পরিস্থিতি। অন্যদিকে অবরোধ শিথিলের আহ্বান জানিয়েছে বৃটেন। কুয়েত বলেছে, কাতার পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলে বয়ে আনতে পারে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এমন অবস্থান সেখানে খাবার পাঠাবে মরস্কো, ওমান। কাতারের পাশে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপসাগরীয় দূতদের নিয়ে আঙ্কারায় বৈঠক করেছেন। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ইয়েমেন, লিবিয়া, মালদ্বীপ, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল। কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনমন করেছে জর্ডান ও জিবুতি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেখানে আগামী বছর বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এ াবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম মাত্তিস বলেছেন, কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব সহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অবরোধ অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে পেতে হবে। তিনি বলেন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জটিল একটি পরিস্থিতি পেয়েছেন। তিনি সঠিক দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন। উপসাগরীয় দেশ ও মিশরের প্রতি কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।

তিনি অবিলম্বে সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উত্তেজনা প্রশমনে পদক্ষেপ নিতে ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধান বের করতে। তবে পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিকরণের জন্য কাতারের নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সোমবার রাতে টুইটারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাস বলেছেন, ভাইয়ের সঙ্গ সৃস্ট সঙ্কটকে আন্তর্জাতিকীকরণের অনেক চেষ্টা করেছে কাতার। তারা নিজেদের মিডিয়াকে উপেক্ষা করেছে। আর্তনাদ তুলেছে যে, তারা নির্যাতিত হচ্ছে। আমাদের ভাই (কাতার) শিগগিরই বুঝতে পারবে সমাধান রয়েছে রিয়াদে এবং তা বাদশা সালমানের হাতে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমাদ আল সাবাহ। তিনি বলেছেন, ৩৭ বছর আগে গড়ে ওঠা গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মধ্যে এমন বিভক্তি এর আগে দেখা যায় নি। এমন পরিস্থিতি দেখা তার পক্ষে কষ্টকর। তিনি বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এই বিভক্তি দেখে খুব কষ্ট পাই আমরা। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন। শুধু তাই নয়, তিনি গত সপ্তাহে এ নিয়ে কথা বলেছেন, কাতারের আমির, সৌদি আরবের বাদশা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও আবু ধাবির যুবরাজের সঙ্গে। ওদিকে কাতারের বিরুদ্ধে দেয়া অবরোধের সমর্থন করেছে ইরিত্রিয়া। এ বিষয়ে সেখানকার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর দূতদের নিয়ে বৈঠক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। এতে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ওয়ালিদ এ এলখারেইজি, আমিরাতের দূত খলিফা শাহিন আলমারার, বাহরাইনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত কামাইল আহমেদ প্রমুখ। এ বৈঠকে তুরস্ক তার উদ্বেগ তুলে ধরে। কাতার সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।