বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন তদন্তের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে

684

ঢাকা সংবাদদাতা: বাংলাদেশে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন তদন্তের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন (সিসিসি)। তারা এ বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোট হওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিশ্চিত করতে। সিসিসি’র নিজস্ব ওয়েবপেইজে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার তারা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেজুলুশন নিয়ে আগামীকাল বুধবার ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। সিসিসি বলেছে, বাংলাদেশে শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে এবং সিস্টেমেটিক উপায়ে নিষ্পেষণ চলছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে হবে এবং নির্ধারণ করতে হবে যে, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাণিজ্যে যে সুবিধা পায় তার জন্য তারা অযোগ্য কিনা। সিসিসি আরো বলেছেন, ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণ চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস আছে বাংলাদেশের। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক মাসে সহিংস নিষ্পেষণ থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একের পর এক ধর্মঘট চলতে থাকে। তাতে গণহারে চাকরিচ্যুত করা হয়। ঘেরাও করা হয় ট্রেড ইউনিয়ন অফিসগুলো। গ্রেপ্তার করা হয় ৩০ জনেরও বেশি শ্রমিক নেতাকে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি চুক্তি হয় তাতে আটক রাখার বিষয়টির প্রায় ইতি ঘটে। কিন্তু শ্রমিক নেতারা অব্যাহতভাবে অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে তাদের শাস্তি হিসেবে জেল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬ মাস আগে বরখাস্ত করার পর বরখাস্তকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল করা হয় নি।

উপরন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক নেতাদের হত্যার হুমকি দেয়ার মাধ্যমে এটা ধরা পড়েছে যে, শ্রমিক অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের জন্য পরিস্থিতি চরম বিপদজনক। সিসিি আরো বলেছেন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড গার্মেন্ট ইউনিয়ন ফেডারেশন (বিআইজিইউএফ)-এর নেতা ও সদস্যদের ওপর সম্প্রতি শারীরিক হামলা হয়েছে। তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে। ফৌজদারি অপরাদের অভিযোগ আনা হয়েছে।