সাইফ হাসান: ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে গত দুই বছরে অন্তত ২২টি শিশু মা\রা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রজেক্ট প্লে নামক একটি সংস্থা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সরকারের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে। সংস্থাটি জানায় ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ ফরাসি পুলিশকে শিশুদের ওপর হা*মলা এবং দমনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে। একটি আট বছরের শিশুসহ অসংখ্য প্রাণ ঝরে পড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রজেক্ট প্লে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে ইংলিশ চ্যানেলে শিশুদের মৃত্যুর হার বর্তমানে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নৌকাতেই শ্বাসরোধ হয়ে বেশ কয়েকজন শিশু প্রাণ হারায়। এর মধ্যে তুরস্কের আট বছর বয়সী আগদাদ হিলমি তার মায়ের সাথেই প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ফরাসি পুলিশ শিশুদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে এবং তাদের ছোট নৌকাগুলো ফুটো করে দিচ্ছে। অনেক পরিবার আইনি পথে আসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এবং শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। পুলিশের এমন অমানবিক আচরণে শিশুরা ট্রমার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অনেক শরণার্থী পরিবার বর্তমানে হোমলেস অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উত্তর ফ্রান্সে ক্রমাগত উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তারা খোলা আকাশের নিচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক শিশু এখন পুলিশের সাইরেন শুনলেই আতঙ্কে লুকিয়ে পড়ছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে যে তারা মানব পাচারকারী চক্র দমনে কাজ করছে এবং ফ্রান্সের সাথে সহযোগিতার ফলে অনেক অবৈধ পারাপার রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দাবি নাকচ করে একটি সংবিধিবদ্ধ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। নিহত শিশুদের স্মরণে লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে বিশেষ শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে।
#ইংলিশচ্যানেল #শিশুনিধন #মানবাধিকার #aknews #onebanglanews















