মাত্র ৩৭৪ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করতে পেরেছে মিয়ানমার

509

প্রথম ধাপে মাত্র ৩৭৪ জন রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করতে পেরেছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় শরণার্থীদের বিষয়ে বাংলাদেশ সঠিক তথ্য সরবরাহ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বুধবার, মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিন্ট থু, এসব কথা জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের দেয়া আট হাজার ৩২ জনের প্রথম তালিকা থেকে ৩৭৪ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে মিয়ানমার। তারা তাদের সুবিধামতো সময়ে দেশে ফিরে যেতে পারে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত ২৩শে নভেম্বর মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্মতিপত্র সই হয়। এর ভিত্তিতে দুই দেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে এবং ১৬ই জানুয়ারি প্রথম বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন বিষয় ঠিক করে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়।

তারই আলোকে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল খ শোয়ের হাতে ৮০৩২ রোহিঙ্গার তালিকা তুলে দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

১৬ই ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেয় মিয়ানমার। সে বিষয়েও এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চুক্তি অনুযায়ী, এখন তাদের জাতিসংঘের কোনো সংস্থার মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে। আশা করা হচ্ছে, এটি দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে। ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তিতে বলা হয়, তালিকা হস্তান্তরের দুই মাসের মধ্যে সম্ভব হলে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে। তবে চুক্তির শর্তানুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতে হবে স্বেচ্ছায়।

গেল বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ অভিযানকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে।