ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বামফ্রন্টের ক্ষমতা হারানোর পর সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সরকারি বাড়ি ছেড়ে দলীয় কার্যালয়ে উঠেছেন। টানা চার মেয়াদে ২০ বছর ক্ষমতায় থাকা এ কমিউনিস্ট নেতার নিজের কোনো বাড়ি নেই।
রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা বিপ্লব কুমার দেব শপথ নেওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী পাঞ্চালি ভট্টাচার্যকে নিয়ে আগরতলায় সিপিআই(এম) অফিসে উঠেন। সেখানে তিনি দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে থাকছেন।
ত্রিপুরা সিপিআই (এম)-এর দফতর সম্পাদক হরিপদ দাশ বলেন, আমাদের পার্টি অফিসে ন্যূনতম বসবাসের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। অধিকাংশ নেতাই সাদাসিধে জীবন-যাপন করেন।
হরিপদ দাশ বলেন, দলীয় কার্যালয়ে যা রান্না হবে তাই খাবেন মানিক সরকার এবং তার স্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কস-এঙ্গেলস সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর বাসা ছাড়ার আগেই সেখান থেকে বই ও জামা-কাপড়ের কয়েকটি প্যাকেট পাঠিয়ে দেন টানা চার মেয়াদের নির্বাচিত এ মুখ্যমন্ত্রী।
কয়েকটি সিডিও সেখান থেকে এনেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মানিক সরকার একটি টিনের বাড়ি পেয়েছিলেন। অন্য কোনো জমি তার ছিল না। পৈত্রিক সম্পত্তি বোনকে দিয়ে দেওয়া মানিক সরকার এর আগেও দলীয় কার্যালয়ে ছিলেন। তার স্ত্রী পাঞ্চালি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। আগরতলা শহরে তার কিছুটা জমি রয়েছে। ওই জমি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দিলেও এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
তবে মানিক সরকারের জন্য ‘ভালো সরকারি আবাসনের’ ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। বিরোধী দলীয় নেতাও মন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন।
বিপ্লব দেব বলেন, সরকার পরিচালনার জন্য আমরা নির্বাচিত হলেও স্বপ্নের ত্রিপুরা গড়তে মানিক সরকার ও তার দলের বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
মানিক সরকারের মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এখন বিধায়কদের হোস্টেলে উঠেছেন। তবে তাদের মধ্য থেকে তিনজন ইতিমধ্যে গ্রামে ফিরে গেছেন।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া















