রাজধানীর নাখালপাড়ায় নিহত এক ‘জঙ্গি’ কাজেম আলী স্কুলের ছাত্র

1001

ঢাকা সংবাদদাতা: রাজধানীর নাখালপাড়ায় ‘জঙ্গি’ আস্তানায় নিহত তিন ‘জঙ্গির’ একজন চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজেম আলী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার নাম নাসিফ উল হাসান। গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে নিখোঁজ হয় নাসিফ।
তার সন্ধান করতে গিয়ে নগরীর সদরঘাটে আশফাক ও রাকিব নামে দুই আতœঘাতী জঙ্গির সন্ধান পায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
যারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেজবাহ নামে আরেক আত্মঘাতী জঙ্গি সরদঘাট এলাকায় বাসাটি ভাড়া করে দেয় বলে জানান। আর এ সময় কাজেম আলী স্কুল থেকে নিখোঁজ নাসিফের সাংগঠনিক নাম আবদুল্লাহ বলে জানায় আশফাক ও রাকিব।

পুলিশ এ সময় মেজবাহ ও নাসিফকে খুঁজে পায়নি। তবে গত ১২ই জানুয়ারি রাজধানীর ঢাকার নাখালপাড়ার রুবি ভিলার ছয় তলা ভবনের পঞ্চম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে দুই জঙ্গির ছবি প্রকাশের পর নাসিফের পরিচয় পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. কামরুজ্জামান আজ শুক্রবার এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মেজবাহ উদ্দিনের পরিচয় আগে পাওয়া গেলেও অপর দুই জঙ্গি অজ্ঞাত থেকে যায়। মেজবাহ উদ্দিনের প্রোফাইলের সূত্র ধরেই অজ্ঞাত দু‘জনের ছবি পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, নিহতদের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তাদের আনুমানিক বয়স ২০ বছর। র‌্যাব তাদের ছবি প্রকাশ করে।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বরত নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, র‌্যাবের প্রকাশ করা ছবি দেখে নাসিফের বিষয়টি আমার নিশ্চিত হয়েছি। এরপরও নাসিফের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে ছবি দেখানো হলে তারাও তাদের ছেলেকে শনাক্ত করেন।
মা-বাবার দেয়া তথ্যমতে, গত বছরের ৬ই অক্টোবর নাসিফ উল ইসলাম নিখোঁজ হয়। সে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজেম আলী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ওইদিন স্কুলে যাওয়ার পর আর ফেরেনি নাসিফ। পরে নাসিফের বাবা নগরীর চকবাজার থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন।
পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, জেএমবির কথিত আমীর ডনের নির্দেশে মেজবাহ ও নাসিফ সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা করে। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টার্গেটকৃত সদরঘাট থানা এলাকার একটি স্কেচম্যাপও আঁকে। ম্যাপটি ডনের কাছে পাঠানো হয়।
আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর আশফাক, নাসিফ, রাকিব ও মেজবাহ চট্টগ্রামে আসে। দুই দিন পর মেজবাহ ও নাসিফ চলে যায়।
কিন্ত এর আগে নিখোঁজ ডায়রির সূত্র ধরে নাসিফকে খুঁজতে গিয়ে নগরীর সদরঘাট পুর্বমাদারবাড়ি পোর্টসিটি হাউজিং সোসাইটির মিনু ভবনে জঙ্গি গ্রুপ নব্য জেএমবির সন্ধান পায় কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
সেখানে অভিযানে ধরা পড়ে আতœঘাতী জঙ্গি সদস্য আশফাকুর রহমান ও রাকিবুল হাসান। তারা জানিয়েছে, নাসিফের সাংগঠনিক নাম আবদুল্লাহ। দুই আত্মঘাতী জঙ্গি ধরা পড়লেও নাসিফ কিংবা ছদ্মবেশে বাসা ভাড়া নেয়া মেজবাহ ধরা পড়েনি। যাদের মৃত্যু হয় নাখালপাড়া জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে।