আওয়ামী দু:শাসনে অশান্তির আগুনে মানুষ দগ্ধ: রিজভী

515

ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যঘাত সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগের নীলনকশা অনুযায়ী ১৪ মামলা বকশীবাজারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলায় এমনিতে সপ্তাহে কয়েকদিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। নতুন মামলাগুলো বকশীবাজারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো- বেগম জিয়াকে প্রতিনিয়ত হয়রানীর মধ্যে রাখা এবং অবিরামভাবে হেনস্তা করা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে এটিও তার অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানী মূলক ১৪টি মামলা রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গত সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনা করার গভীর ষড়যন্ত্র। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আরও বেশী হয়রানী করতেই সরকারের আর একটি নির্মম পদক্ষেপ।

এই কারণেই সরকার এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় বসেন তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ হাজার হাজার মামলা চলমান ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে করা ১/১১ এর অবৈধ সরকারের করা কয়েকটি মামলা ছিল অভিন্ন। অথচ তারা ক্ষমতায় বসার পর প্রধানমন্ত্রীর মামলাসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাজার হাজার মামলা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে নিজেদের মামলাগুলো জাদুর কাঠির ইশারায় প্রত্যাহার হয়ে যায়। আর বিএনপি চেয়ারপারসন সহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা জাল ও ভুয়া নথি তৈরি করে মিথ্যা মামলাগুলো চলে সুপারসনিক গতিতে।

আওয়ামী দু:শাসনে অশান্তির আগুনে ভিতরে ভিতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের হাইওয়ের দিকে না গিয়ে চক্রান্তের হদিস করে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধের মতো এরা এখন সুপথের সন্ধান পাচ্ছে না। তাই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে চক্রান্তে মেতে উঠেছে। আমি সুস্পষ্টভাবে বলছি-নিজেদের বোনা চক্রান্ত জালে নিজেরাই আটকা পড়বেন। জনগণই রাজপথে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গতকাল নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণারও প্রস্ততি চলছে। কিন্তু আজও গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে শঙ্কা ও সংশয়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হয়েছে। হঠাৎ আইনী মারপ্যাঁচ দেখিয়ে নির্বাচনকে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হয় কী না তা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া আদৌ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কী না এমন প্রশ্নও ঘোড়পাক খাচ্ছে।

ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন পরিবেশ নির্বাচনী এলাকায় নেই। বিরোধী দলগুলোর সভা সমাবেশ দুরে থাক মতবিনিময় সভা করার মতোও পরিবেশ নেই। আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে ডিএনসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচনী মাঠ সমতল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

অবৈধ ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত থেকে চর্চিত হিংসার স্ফুরণে ছাত্রলীগের বেপরোয়া অনাচার ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে। গত পরশু রাতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্রী আফসানা আহমেদ ইভাকে প্রচন্ড শীতের রাতে হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইভার প্রতিবাদের অনন্য দৃষ্টান্ত গোটা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শুধু ছাত্রলীগ নয়, এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোষ্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমানভাবে এই দুষ্কর্মের জন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।