সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী মিয়াত্ত ফাহনবুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের এই প্রস্তাব সরাসরি সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি জানান, অভিবাসন নীতিতে সংস্কার প্রয়োজন হলেও তা মানবিকতা এবং দেশের প্রতি অভিবাসীদের অবদানের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। লেবার পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যদের আপত্তির কারণে প্রস্তাবিত এই নীতিতে শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন আসতে পারে।
বুধবার স্কাই নিউজের এক অনুষ্ঠানে মিয়াত্ত ফাহনবুলেকে এই ১৫ বছরের অপেক্ষার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান। শরণার্থী হিসেবে ব্রিটেনে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থা যে পুরোপুরি কার্যকর নয় তা স্পষ্ট, তবে সংস্কারের প্রক্রিয়া এমন হতে হবে যাতে অভিবাসীরা সমাজে সহজে মিশে যেতে পারেন। শাবানা মাহমুদের সংস্কার প্রচেষ্টার প্রতি সামগ্রিক সমর্থন জানালেও ১৫ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি সমর্থন করেন কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি এই মন্ত্রী।
এর আগে নিজের পেকহাম সংসদীয় এলাকার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বক্তব্যেও ফাহনবুলে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। ওই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, মানুষের স্থায়ী হওয়ার সময়কাল বারবার পিছিয়ে দিলে সমাজে সংহতি গড়ার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়, যদিও পরবর্তীতে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই অবস্থান সরকারের ভেতরকার স্পষ্ট অসন্তোষকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
শুধু ফাহনবুলেই নন, যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও আবাসন মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও ইতিপূর্বে শাবানা মাহমুদের এই প্রস্তাবের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন। এছাড়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম কেয়ারার বা স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে হোম অফিসের যুক্তি, এই খাতে ছাড় দেওয়া হলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই বিদেশি কর্মীদের বড় অংশ পেশা বদল করতে পারেন।
লেবার পার্টির ডজনখানেক সংসদ সদস্য ২০২১ সাল থেকে পেছনের তারিখ দিয়ে এই নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করছেন। অভ্যন্তরীণ এই অসন্তোষ এড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ তার প্রস্তাবে কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিয়েছেন। এদিকে সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্রিটেনে স্থায়ী নাগরিকত্ব কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয় বরং তা যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন করতে হবে, আর এই সংক্রান্ত মতামত যাচাই-বাছাই শেষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
#যুক্তরাজ্য #অভিবাসন #ব্রিটিশরাজনীতি #aknews #onebanglanews















