কেয়ারারদের ভিসা নীতি নিয়ে নতুন গুঞ্জন,যা বললেন অ্যাঞ্জেলা রেনার…

93

সাইফ হাসান: লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের আগেই বিদেশি কেয়ার কর্মীদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের কঠোর নিয়মের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে তিনি চরম বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে তৈরি এই নীতিতে কর্মীদের স্থায়ী হতে ১৫ বছর অপেক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বাধীন সরকারে এ নিয়ে দলীয় বিরোধ প্রকাশ্যে আসার আভাস মিলছে।

দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেন, দেশের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের সেবা দেওয়ার জন্য যাদের আনা হয়েছিল, পরে তাদের জন্য এভাবে নিয়ম বদলে দেওয়া একেবারেই ক্ষতিকর। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে একসময় কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করা রেনার জানান, যারা পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার জন্য নিজের দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তাদের ওপর এমন কড়াকড়ি অন্যায্য। তিনি বিশ্বাস করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও তার এই আপত্তির বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন।

গত বছর ঘোষিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট স্তরের নিচের কম বেতনের অভিবাসী কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য যুক্তরাজ্যে অন্তত ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চলতি সপ্তাহে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষে সরকার খুব দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি জানান, সেবামূলক কাজে আসা ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্ব এবং দেশের সাধারণ মানুষের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লেবার পার্টির শতাধিক এমপি এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। বিবিসি রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমপি রেচেল মাস্কেল জানান, যারা ইতিমধ্যে দেশটিতে কাজ করছেন তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর না-ও হতে পারে। এমনকি জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও এই পরিকল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন এবং বর্তমান কর্মীদের এই বিধির বাইরে রাখার কথা ভাবছেন।

সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার বিদেশি কেয়ার কর্মী যুক্তরাজ্যে এসেছেন। বিদ্যমান আইন পরিবর্তন না হলে ২০২৭ সাল থেকেই তাদের অনেকে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করবেন। রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া লেবার পার্টির সম্মেলনের ঠিক মুখে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যকার এমন মতপার্থক্য নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।

#যুক্তরাজ্য #লেবারপার্টি #ভিসানীতি #aknews #onebanglanews