জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখ পদে চাকরি, বিদেশিদের জন্য বড় সুযোগ

76
দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে, যা বিদেশে ক্যারিয়ার গড়া এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে বসতি স্থাপনের কথা ভাবছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য জার্মানিকে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান।
দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে বর্তমানে চলমান গালফ নিউজ লেভেলআপ অনুষ্ঠানে এক ফায়ারসাইড চ্যাটে তিনি এ কথা বলেন। লেভেলআপের প্ল্যাটিনাম স্পনসর ওয়াই-অ্যাক্সিস।
ক্লিন্ট খান বলেন, ‘বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ৩০ লাখ চাকরি পূরণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি জার্মানিতে রয়েছে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জার্মানিতে। এটি দেশটিতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদার ব্যাপকতা তুলে ধরে।’
দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে যাওয়ার একটি পথ হলো দেশটির অপরচুনিটি কার্ড বা শান্সেনকার্টে (Chancenkarte)। এই চাকরি খোঁজার আবাসন অনুমতিপত্রের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকেরা ভ্রমণের আগে চাকরির চুক্তি নিশ্চিত না করেই যোগ্য চাকরি খুঁজতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য জার্মানিতে যেতে পারেন।
ক্লিন্ট খান বলেন, ‘অপরচুনিটি কার্ড আপনাকে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেয়। শুরুতে আপনি খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। পরে যদি পূর্ণকালীন চাকরি পান এবং কোনো নিয়োগকর্তা আপনাকে স্পনসর করতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে উপযুক্ত ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।’
পড়াশোনা নাকি স্থায়ীভাবে বসবাস?
ক্লিন্ট খান বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যাওয়ার কথা ভাবছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য কোন দেশ বা কোন কোর্স বেছে নেবেন, তার আগে আরও বড় একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের স্পষ্ট হতে হবে, তারা সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, নাকি দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসনের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, ‘সবার পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আপনি যদি সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চান, তাহলে এটি একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত। কিন্তু আপনি যদি মূলত স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে বিদেশে পড়াশোনা বেছে নেন, তাহলে পড়াশোনা শেষ করার পর কী হবে এবং কীভাবে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন, তা আপনাকে বিবেচনা করতে হবে।’
ক্লিন্ট খান বলেন, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কোনো পড়াশোনার গন্তব্য নির্ধারণের আগে তারা কী অর্জন করতে চান, তাদের বাজেট, যোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রথমে মূল্যায়ন করা উচিত।
ক্লিন্ট খান বলেন, ‘ওয়াই-অ্যাক্সিসে আমরা প্রথমে বুঝতে চেষ্টা করি, আপনি সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চান কি না। যদি চান, তাহলে আপনার বাজেট, আগ্রহ এবং আপনি কী অর্জন করতে চান—এসবের ভিত্তিতে আমরা কোর্সের পরামর্শ দিই। আমরা আপনাকে বিভিন্ন বিকল্প দিই, আর কোন পথ বেছে নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনার। এরপর ভর্তি ও ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আমরা আপনাকে সহায়তা করি।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, স্নাতক শেষ করার পর কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা বিবেচনা না করে শুধু দেশ ছাড়ার উপায় হিসেবে কোনো পড়াশোনার গন্তব্য বেছে নেয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘মানুষ বিদেশে যাওয়ার সহজ উপায় হিসেবে পড়াশোনাকে বেছে নেয়, কিন্তু পাঁচ বছর পর কী হবে, তা তারা ভাবে না। এটি তাদের করা একটি ভুল। তারা এমন কোনো দেশও বেছে নিতে পারে, যেখানে তাদের জন্য ভবিষ্যৎ নেই।’
যেসব পেশাজীবী মনে করেন উচ্চশিক্ষা তাদের জন্য সঠিক পথ নয়, তাদের জন্য দক্ষ কর্মী হিসেবে অভিবাসন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিকল্প পথ হতে পারে।
ক্লিন্ট খান বলেন, ‘জার্মানি ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং কানাডার ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার পথ রয়েছে।’
বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ বেছে নেয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা জরুরি বলে জানিয়েছেন ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান। শুধু দেশ ছাড়ার উপায় হিসেবে পড়াশোনা না বেছে নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। উচ্চশিক্ষার পরিবর্তে দক্ষ কর্মী হিসেবে অভিবাসনও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি পথ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার দক্ষ কর্মী অভিবাসন ব্যবস্থার কথা বলেন।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ