জেরেমি করবিন যথার্থই বলিয়াছেন

831

ওয়ানবাংলা নিউজ: যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলিয়াছেন যে তাহার দেশের যুদ্ধবাজ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই ম্যানচেস্টারের কনসার্টে হামলা হইয়াছে। সম্প্রতি ম্যানচেস্টারে মার্কিন সংগীত তারকা অ্যারিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সকলেই জানেন, মর্মান্তিক এই হামলায় অনেকেই হতাহত হইয়াছেন। তাহার অভিঘাত যুক্তরাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আবহকেও ছাপাইয়া উঠিয়াছে। প্রত্যাশিতভাবেই করবিনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াও হইয়াছে ব্যাপক। তবে স্বস্তির বিষয় হইল, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তীব্র সমালোচনার মুখেও করবিন পিছু হটেন নাই। বরং তাহার বক্তব্যের সপক্ষে জোরালো যুক্তি তুলিয়া ধরিয়াছেন। দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ ও নিরাপত্তা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করিয়া তিনি বলিয়াছেন যে অন্যান্য দেশে যুক্তরাজ্য যেসকল যুদ্ধে জড়িত আছে কিংবা সমর্থন জোগাইতেছে—তাহার সহিত দেশটির অভ্যন্তরীণ এই সন্ত্রাসী তত্পরতার যোগ রহিয়াছে। শুধু এইটুকু বলিয়াই ক্ষান্ত হন নাই তিনি, সেই সাথে খোলাখুলিই বলিয়াছেন যে তাহার দেশের জনগণকে সুরক্ষা দিতে হইলে দেশটির নিরাপত্তায় কোন জিনিসটি হুমকি সেই ব্যাপারে সত্য কথাটাই বলিতে হইবে।

জেরেমি করবিন যথার্থই বলিয়াছেন। আমরাও দীর্ঘদিন যাবত্ এই কথাই বলিয়া আসিতেছি। আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ার সহিত যাহা করা হইয়াছে এবং এখন সিরিয়ার জনগণের সহিত যাহা করা হইতেছে—বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন কোনো মানুষের পক্ষে কি তাহা সহ্য করা সম্ভব? নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন ইহার জন্য কে দায়ী। পৃথিবীর মানুষকে যাহারা বোকা ভাবেন প্রকৃতপক্ষে তাহারা নিজেরাই বোকার স্বর্গে বসবাস করিতেছেন। কাহারা কী উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ সুখী সচ্ছল পরিবারকে পথে বসাইয়াছেন তাহা ইতোমধ্যে সকলেরই জানা হইয়া গিয়াছে। সর্বোপরি ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে, একচ্ছত্র ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হইয়া যাহাদের জীবন-জীবিকা ও মান-সম্মান ধুলার সহিত মিশাইয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহাদের এখন হারাইবার কিছুই নাই। যদি কেহ ভাবিয়া থাকেন যে যাহাদের পায়ের নীচে মাটি নাই, মাথার উপরে ছাদ নাই, পেটে ভাত নাই—সেই সর্বস্বান্ত মানুষেরা এখন আর কীই-বা করিতে পারিবে, ম্যানচেস্টারের ঘটনাটি তাহাদের জন্য তাত্পর্যপূর্ণ এক সতর্কবার্তা হিসাবে বিবেচিত হইতে পারে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলিতে হয়, ‘যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে/পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।’

জেরেমি করবিনকে এই কারণে সাধুবাদ জানাইতে হয় যে তিনি সেই সতর্কবার্তা শুনিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, অন্যদেরও সতর্ক করিতে সচেষ্ট হইয়াছেন। ক্ষমতাধরদের বধির বিবেকে তাহা সাড়া জাগাইতে পারুক আর নাই পারুক— নিজেদের কৃতকর্মের দায় যে কেহই এড়াইতে পারিবেন না তাহা নিশ্চিত। অন্ধ হইলেই প্রলয় বন্ধ হইবে না।