লিফটে আটকে গেলে কী করবেন?

110
দেশে বাড়ছে লোডশেডিং। আপনি হয়ত অফিসে, স্কুলে কিংবা শপিং মলে লিফটে উঠেছেন—গন্তব্য আর মাত্র কয়েক তলা দূরে। হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল লিফট, নিভে গেল আলো, বন্ধ হয়ে গেল দরজা। মুহূর্তেই বুকের ভেতর ধকধক, কপালে ঘাম, মাথায় একটাই প্রশ্ন—‘এখন কী হবে?’ মনে হতে পারে, ছোট্ট এই বদ্ধ জায়গাটাই যেন হঠাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। কিন্তু ভয় পেয়ে ছটফট করার বদলে মাথা ঠান্ডা রাখুন। কারণ লিফটে আটকে পড়লে আপনার প্রথম কাজ বেরিয়ে আসা নয়, বরং নিরাপদ থাকা এবং সঠিকভাবে সাহায্য চাওয়া।
লিফটে আটকে গেলে যা করবেন
১. শান্ত থাকুন
  • আতঙ্কিত হয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি বা লাফালাফি করবেন না। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং নিজেকে বোঝান, উদ্ধারকর্মীদের জানানোর ব্যবস্থা আছে।
২. অ্যালার্ম চাপুন
  • লিফটের প্যানেলে থাকা ‘বেল’ বা জরুরি অ্যালার্মের বোতাম চাপুন। এটি চালু হলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।
৩. ইন্টারকম ব্যবহার করুন
  • লিফটে ইন্টারকম থাকলে সেটি ব্যবহার করে নিরাপত্তাকর্মী, কেয়ারটেকার বা ভবন কর্তৃপক্ষকে জানান। আপনি কোন লিফটে এবং কোন তলায় আটকে আছেন, তা স্পষ্ট করে বলুন।
৪. ফোনে সাহায্য চান
  • মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা পরিচিত কাউকে ফোন করুন। প্রয়োজন হলে স্থানীয় জরুরি সেবার সহায়তাও চাইতে পারেন এবং নিজের অবস্থান জানাতে পারেন।
৫. অন্ধকার হলে মোবাইলের আলো ব্যবহার করুন
  • আলো নিভে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে মোবাইলের টর্চ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সারাক্ষণ আলো জ্বালিয়ে না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন, যাতে ব্যাটারি শেষ না হয়ে যায়।
৬. স্থির হয়ে থাকুন
  • লিফটের ভেতরে অযথা হাঁটাহাঁটি বা নড়াচড়া করবেন না। সম্ভব হলে পেছনের দিকে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান কিংবা বসে থাকুন এবং উদ্ধারকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করুন।
৭. উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করুন
  • ভয় বা অস্থিরতা বাড়লে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। চাইলে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গুনতে পারেন বা পরিচিত কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলে মনোযোগ অন্যদিকে রাখুন।

৮. গভীর শ্বাস নিন

  • ভয় বাড়লে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিয়ে ছাড়ুন। এতে নিজেকে শান্ত রাখা সহজ হবে এবং আতঙ্ক কিছুটা কমতে পারে।

৯. উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষা করুন

  • সাহায্যের খবর দেয়ার পর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। লিফট নিজে থেকে চালু হলেও দরজা না খোলা পর্যন্ত বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
লিফটে আটকে গেলে অ্যালার্ম, ইন্টারকম বা ফোনে সাহায্য চাওয়া মূলত তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলানোর উপায়। এগুলো লিফটের ত্রুটি ঠিক করে না, বরং উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে সাহায্য করে। তাই বিদ্যুৎ চলে আসবে বা লিফট নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে ভেবে ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেয়াই সবচেয়ে জরুরি।

যে কাজগুলো করবেন না—

১. দরজা জোর করে খুলবেন না
লিফট আটকে গেলে নিজে হাতে দরজা খোলার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। লিফট হঠাৎ চালু হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
২. দরজার ফাঁক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না
লিফট দুই তলার মাঝখানে আটকে থাকতে পারে। এমন অবস্থায় ফাঁক দিয়ে বের হতে গেলে নিচে পড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৩. লিফটের ছাদ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না
ছাদের হ্যাচ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকর্মীরা না আসা পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়।
৪. লিফটে লাফালাফি বা ঝাঁকুনি দেবেন না
লিফট নড়াচড়া করানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব স্থির থাকুন।
৫. দরজায় ধাক্কাধাক্কি করবেন না
জোরে দরজা পেটানো বা যন্ত্রাংশে হাত দেয়া সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে। বরং অ্যালার্ম ও ইন্টারকম ব্যবহার করে সাহায্য চান।
৬. নিজে থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না
উদ্ধারকর্মীরা না আসা পর্যন্ত লিফট থেকে বের হওয়ার ঝুঁকি নেবেন না। নিরাপদ জায়গায় স্থির থেকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, লিফটে আটকে গেলে আতঙ্কে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেয়া। আটকে পড়া মুহূর্তটি যতই আতঙ্কের হোক, মাথা ঠান্ডা রাখাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। অ্যালার্ম, ইন্টারকম বা ফোনে দ্রুত সাহায্য চান, স্থির থাকুন এবং উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলুন। মনে রাখবেন, কয়েক মিনিটের আতঙ্কে নেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে—তাই লিফট থেকে নিজে বের হওয়ার চেষ্টা নয়, নিরাপদে উদ্ধার হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।